বিশ্ব ক্রিকেট দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসheldধারণ করে রেখেছিল যখন পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সেই চরম প্রহরগুলোতে মাঠের আলোয় ফের বাকি অংশ এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় দুই দলের দ্বিধা দুর হয়ে গেল। রঞ্জি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রবিবার সন্ধ্যায় মাঠে গর্জে উঠবে ১৩ বছরে সর্বাধিক প্রতীক্ষিত এই লড়াই। এই ম্যাচ শুধু একটি খেলা নয়, এটি সেই কারণ যেটি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ক্রিকেটকে জীবন্ত রেখেছে।
![]()
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের নায়কের মতো পিচ
প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম ক্রিকেটের ইতিহাসে বহু উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের অঙ্গ। আজকের পিচটি আগের জিম্বাবুয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ব্যবহৃত প্রায় একই পিচ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে বল ধীর, গ্রিপড এবং নিচে হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বল পিচে ধরে, সামান্য বাঁক খায় এবং সেই বোলারই সফল হবে যিনি গতি পরিবর্তন ও পথে বৈচিত্র আনতে পারবেন। এখানকার পরিস্থিতিতে স্পিন বলই বড় ভূমিকা নেবে।
ভারতের পরিকল্পনা ও পাকিস্তানের কৌশল
ভারতীয় দল নির্ভর করবে তার রহস্যময় স্পিনার ভারুণ চক্রবর্তী এবং বাঁ হাতে নিয়ন্ত্রণে আক্ষর প্যাটেলের দক্ষতায়। এছাড়া কুলদীপ যাদবের কব্জি স্পিন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের গত কয়েক বছরে চিন্তায় ফেলেছে। পাকিস্তানও তার নিজের ঘূর্ণির খেলাকে সাজিয়েছে শাদাব খান, আবরার আহমেদ, মোহাম্মদ নাওয়াজ এবং বিশেষ করে ৩০ বছর বয়সী অফ স্পিনার উসমান তারিকের মাধ্যমে। উসমানের বলের গতিমাঝারি থেমে থাকা, নিম্ন হাতের স্লিং শট, ও বলের খসে যাওয়া এটুকুই প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছে। টুর্নামেন্টে দু’বার রিপোর্ট হওয়ার পরও তিনি সন্দেহমুক্ত হয়েছেন।
কप्तান সালমান আলি আহগা উসমানকে “ট্রাম্প কার্ড” হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পিন-অনুকূল বায়ুর মধ্যে সেই কার্ড আজ সবচেয়ে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে। যদি উসমান তার বৈচিত্র্যে সঠিক হিট পান, তাহলে এমনকি ভারতের মাঝারি ব্যাটসম্যান—সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ড্য, রিঙ্কু সিংহ—ও ফিক্সড বাউন্ডারিগুলোকে দূরে খুঁজে পেতে পারেন।

পেস বোলিং ও ব্যাটিংয়ের পরীক্ষা
স্পিন ছাড়া পাকিস্তানের নির্ভরতা পুরোপুরি হতে পারে না। পেস বোলিং ইকোয়েশনে রয়েছে অনন্য চ্যালেঞ্জ। শাহীনে শাহ আফ্রিদি এখনও দলের অন্যতম কেন্দ্রীয় তারকা, এমন একজন যিনি বড় ম্যাচে ডেলিভারি দিয়েছেন। কিন্তু বাম-হাতি সেলামান মির্জা সাম্প্রতিক সময়ে তার সুইং ও মাটিতে বল মারার মাধ্যমে ভালো ছাপ রেখেছেন। রবিবারের শর্তগুলো খুব বেশি সুইং অফার নাও করতে পারে, তারপরও মির্জার বর্তমান রিদম এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে দল পরিচালনা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনও পরিচিত দুর্বলতাগুলো বহন করছে। শুরুর দুই ইনিংসে সহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব দ্রুত সূচনা দিয়েছেন। কিন্তু সালমান আহগা ও প্রাক্তন অধিনায়ক বাবর আজামকে আরও ভালো অবদান রাখতে হবে। ভারতের পরিবর্তনশীল ব্যাটিং লাইনআপ, বিশেষ করে যদি অভিষেক শর্মা ফিট থাকেন, তাহলে দ্রুত পাউয়ারপ্লেতে ভারতীয় দলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
রাজনৈতিক ধাঁচের প্রভাব
মাঠের বাইরের প্রেক্ষাপটও অবহেলা করা যায় না। মাত্র কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ এই ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছিল। লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে তীব্র আলোচনার পর আইসিসি কিছু দাবি মেনে নেয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখন এমন খবর আছে যে বিসিবি, পিসিবি, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা আজকের ম্যাচের পাশের কুড়িগ্রামে অপ্রাতিষ্ঠানিক আলোচনায় মিলিত হতে পারেন। এর ফলাফল ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বা টুর্নামেন্টে কী প্রভাব ফেলবে তা সময় বলে দেবে।

শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি
পাকিস্তান কিছুটা আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামছে। ভারতের সাথে শেষ ১৬ টি২০ আই ম্যাচের ১৩ টি জয় আছে। তবুও পরিসংখ্যানের চেয়ে সমান পরিস্থিতি রয়েছে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম আজ ২০০ রান গড়ার মতো পিচ নয়; ১৬০-১৭০ রানই ভালো সংগ্রহ হবে। ব্যাটে শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মুহূর্তে স্থিতির চেয়ে কোন দল এগিয়ে থাকবে তা নির্ধারণ করবে এই ম্যাচ।
আজ সন্ধ্যায় ৩৫,০০০ দর্শকের সমাগম ঘটবে, উপমহাদেশের এবং এর পাড়াপারের কোটি কোটি দর্শক টিভির সামনে বসবে। জয় বা পরাজয় নির্বিশেষে ক্রিকেট আবার একটি বড় কারণ স্মরণ করাবে কেন এই খেলা এত অনুপ্রেরণা দেয়। অক্সিজেন ফিরে এসেছে। খেলাটি শুরু হোক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















