বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে মার্কিন ডলারের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কমে যাওয়া নিয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা International Monetary Fund–এর সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং People’s Bank of China–এর সাবেক উপগভর্নর ঝু মিন সতর্ক করে বলেছেন, এ বছর দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এটি সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি।

ডলারের অংশীদারিত্ব কমছে
ঝু মিন উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মার্কিন ডলারের অংশ এখন কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল। তার মতে, এই পতন ডলারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তিনি চীনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স’ সাময়িকীতে এক প্রবন্ধে লিখেছেন, স্বর্ণ, ইউরো এবং ইউয়ানের অংশ বাড়ছে। বাজারের এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছে ডলারের প্রভাব কমছে।
![]()
সুদের হার কমানো কতটা কার্যকর
ঝু মিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve যদি চলতি বছর সুদের হার কমায়, তাহলে তা আর্থিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করেন, সুদের হার কমানোর গতি যদি মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, ভুল সময়ে বা অতিরিক্ত হারে সুদ কমানো হলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শক্তিশালী মুদ্রা গড়ার বার্তা
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping বলেছেন, চীনকে এমন একটি ‘শক্তিশালী মুদ্রা’ গড়ে তুলতে হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে এবং বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রার মর্যাদা অর্জন করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের প্রতি আস্থা কমার ইঙ্গিত এবং বিকল্প মুদ্রার অংশ বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে এই রূপান্তর কত দ্রুত ঘটবে এবং তার প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি ও বাজারের আস্থার ওপর।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















