জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জন সেই ন্যূনতম ভোট অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এই ফলাফল কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে দলটি। বাকি একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

কুষ্টিয়া-১ আসন
কুষ্টিয়া-১ আসনে মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৩টি ভোট পড়ে। এখানে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জামায়াতের প্রার্থী বেলাল উদ্দিনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
এই আসনে ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (তারা প্রতীক) মো. গিয়াস উদ্দিন, যিনি পেয়েছেন ২০৩ ভোট; বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মোমবাতি প্রতীক) মো. বদিরুজ্জামান, ২৪১ ভোট; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা প্রতীক) মো. আমিনুল ইসলাম, ৪ হাজার ৬৩ ভোট; স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (সাইকেল প্রতীক), ১৭ হাজার ৮৬৪ ভোট; গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক প্রতীক) মো. শাহাবুল ইসলাম, ৬১৩ ভোট; এবং জাতীয় পার্টির (লাঙল প্রতীক) মো. শাহরিয়ার জামিল, ১ হাজার ৯৪ ভোট।
কুষ্টিয়া-২ আসন
কুষ্টিয়া-২ আসনে মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯১১টি ভোট পড়ে। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল গফুর বিএনপির রাগিব রউফ চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
এখানে তিনজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কোদাল প্রতীক) নুর উদ্দিন আহমেদ, ৮০ ভোট; ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের (চেয়ার প্রতীক) মো. বাবুল আক্তার, ১ হাজার ১২৩ ভোট; এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা প্রতীক) মো. আলী, ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট।
কুষ্টিয়া-৩ আসন
কুষ্টিয়া-৩ আসনে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ৩২৩টি ভোট পড়ে। এ আসনে মুফতি আমির হামজা বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মো. জাকির হোসেন সরকারকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
এই আসনে চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মই প্রতীক) মীর নজমুল ইসলাম, ৪৪২ ভোট; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (হাতি প্রতীক) রুম্পা খাতুন, ৪৭৫ ভোট; গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক প্রতীক) মো. শরিফুল ইসলাম, ২৯৯ ভোট; এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা প্রতীক) মো. আবদুল্লাহ আকন্দ, ৫ হাজার ১৫৩ ভোট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কুষ্টিয়ার চার আসনে অংশ নেওয়া একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির রুম্পা খাতুন।
কুষ্টিয়া-৪ আসন
কুষ্টিয়া-৪ আসনে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ২৬০টি ভোট পড়ে। এখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
এই আসনে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা প্রতীক) আনোয়ার খান, ১ হাজার ৩৭৩ ভোট; বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতিয়া পার্টির (রকেট প্রতীক) তরুণ কুমার ঘোষ, ৬৭১ ভোট; গণফোরামের (উদীয়মান সূর্য প্রতীক) মো. আবদুল হাকিম মিয়া, ২৫৫ ভোট; এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির (ডালিম প্রতীক) মো. শহিদুল ইসলাম, ৩০৮ ভোট।
সার্বিকভাবে কুষ্টিয়ার নির্বাচনী ফলাফল দেখিয়েছে যে, বড় দুই দলের বাইরে অধিকাংশ প্রার্থী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















