পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ফ্রান্সের প্রভাব দ্রুত কমে যাওয়া এবং রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় সেখানে এক ধরনের “সামরিক শূন্যতা” তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা পূরণে চীন বিশেষভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তা কাজে লাগিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ করছে।

ফ্রান্সের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপট
২০২০ সাল থেকে সাহেল অঞ্চলে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারসহ একাধিক দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোট ও ঐতিহ্যগত সামরিক সহযোগিতা ভেঙে পড়ে।
ফ্রান্স বহু বছর ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি বাহিনী অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ায় একটি কৌশলগত শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই “সামরিক শূন্যতা”ই নতুন শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
চীনের কৌশল ও বাজার সম্প্রসারণ
জানুয়ারিতে প্রকাশিত চীনের সরকারি সামরিক-বেসামরিক সাময়িকী চায়না মিলিটারি টু সিভিলিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকায় “সাশ্রয়ী প্রযুক্তি” ও “নমনীয় অর্থায়ন সুবিধা” প্রদানের সুনামকে কাজে লাগাচ্ছে বেইজিং।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন উল্লেখ করেছে, ফরাসি প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে চীনের সামরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নতুন পরিসর তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্প প্রশাসনের সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, অঞ্চলে ফরাসি ও রুশ অস্ত্রের ব্যবহার কমে যাওয়ায় চীনা অস্ত্রের জন্য “বাজার প্রতিস্থাপনের সুযোগ” তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার সীমাবদ্ধতা
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার নিজস্ব সামরিক চাহিদা বেড়েছে এবং বিদেশি গ্রাহকদের জন্য অস্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলো বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় চীন দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে এবং নতুন সামরিক বাজার দখলের পথে এগোচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















