জলগাঁও থেকে চন্দ্রাপুর পর্যন্ত ৭ ঘণ্টার ট্রেন যাত্রা তাদের জন্য ছিল ঘুমহীন, কিন্তু মনে থাকার মতো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। শুরুটা হয়েছিল একটি সাধারণ স্লীপার ক্লাসের টিকিট থেকে, যেখানে তারা ভেবেছিল শান্তি ও বিশ্রাম পাবে। কিন্তু ভারতের ট্রেনে স্লীপার ক্লাসের অর্থ শুধুই বিছানা না, বরং এক জীবন্ত, প্রাণবন্ত সামাজিক মিলনক্ষেত্রও। দুই কানাডীয় পর্যটকের ছাত্রীদের ভীড়ে ঘেঁষাঘেঁষি বসে যাত্রা করার দিনটিই হয়ে উঠল সংস্কৃতি ও হাসি হাসিতে ভরা স্মৃতিময় এক রাত।
ট্রেনের স্লীপার ক্লাসে মিলনঃ ঘুমের বদলে মিশে যাওয়া
জলগাঁও থেকে চন্দ্রাপুর যাওয়ার পথে স্লীপার ক্লাসে টিকেট নেওয়ার সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়। তারা ভেবেছিল সেখানেই আরাম করে ঘুমাবে। কিন্তু আসলে স্লীপার ক্লাসে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা খুব কম, এবং একে একে বিভিন্ন পরিবারের শিশু ও বড়রা তাদের কেবিনে জড়ো হতে লাগল। শিশুরা কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে এলে পর্যটকেরা তাদের ঠেলে সরানোর চাইতে হাসিমুখে আলাপ করতে শুরু করল।

ট্রেনের কেবিন হয়ে উঠল একটি বড় পরিবারের আসর
ঘটনাস্থলে তৈরি হয়েছিল এমন এক সম্পর্ক, যেখানে খেলাধুলা, আলাপচারিতা ও মজা মিলেমিশে গেল। বিভিন্ন জায়গায় স্টেশনে থামে খাবার বিক্রেতারা পাশ কাটানো জানালা দিয়ে খাবার দিলেন, কেউ নিজের মা–বোনের রান্না করা খাবার ভাগ করে নিলেন। পর্যটক দম্পতি ভাষার ভেদে সখ্য গড়ে তুললেন নটুসড়ুসড়ে পরিবেশে।
ঘুম না হলেও অমূল্য স্মৃতি
সপ্তাহভর ঘুম না পেলেও এই অভিজ্ঞতাকে তারা অমূল্য মনে করেন। কানাডীয় পর্যটকরা লেখেন, ‘সাত ঘণ্টার ঘুমহীন ট্রেন যাত্রা, কিন্তু কিছুই বদলাতে চাই না।’ অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উদার মনোভাব ও খোলা মনকে প্রশংসা করেছেন, কারণ সাধারণ যাত্রা এত সুন্দরভাবে মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
ট্রেন যাত্রার বিশেষত্ব
অনেকে মন্তব্য করেছেন, ট্রেনের ভেতরে মানুষ একে অপরের গল্প, হাসি, কষ্ট ও খাবার ভাগ করে নেয়, যা বিমানের বা গাড়ির যাত্রায় হয় না। এমন অভিজ্ঞতা মানুষকে এক পরিবারের মতো করে দেয় এবং জীবনজুড়ে স্মৃতিতে ধরে রাখে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















