যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৪ শতাংশে, নাগরিকদের স্বস্তি কিছু খাতে
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ২.৪ শতাংশে নেমেছে, যা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। গ্যাসোলিন ও ব্যবহৃত যানবাহনের দাম কমার কারণে এই হ্রাস সম্ভব হয়েছে। তবে কম্পিউটার ও ওয়াশিং মেশিনের মতো কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ এখনও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অনুভব করছেন।
জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডিসেম্বরের ২.৭ শতাংশের চেয়ে কম এবং অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার ২.৫ শতাংশের নিচে। মূল মূল্যসূচক, যা অস্থির খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়, গত বছরের তুলনায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবার ডিপার্টমেন্টের শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্ট জানিয়েছে, জানুয়ারির চাকরির বাজারও আশাপ্রদ, যা অর্থনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব যোগ করেছে।
সুদের হার ও ফেডের ভূমিকা
নিম্ন বেকারত্বের কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা ধীর হলেও, ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো তাত্ক্ষণিক সুদের হার হ্রাসে আগ্রহী নয়। তারা আরও কয়েক মাসের প্রমাণ চাইতে পারেন যে, ব্যবসাগুলি তারিফের উচ্চ খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপাচ্ছে না এবং মূল্য চাপ আস্তে আস্তে কমছে। হোয়াইট হাউস এই রিপোর্টকে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুদের হার হ্রাসের আহ্বান পুনরায় তুলে ধরেছে।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্য ছোঁয়া কঠিন হতে পারে। জানুয়ারিতে বিভিন্ন পণ্যের দাম, বিশেষত যেগুলি তারিফ দ্বারা প্রভাবিত, বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন গাড়ি, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি উল্লেখযোগ্যভাবে দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তারিফের প্রভাব অল্প সময়ের জন্য হলেও তার ধারা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রভাবশালী হতে পারে।

পরিষেবা খাত ও ভোগ্তাদের স্বস্তি
পরিষেবা খাতের দাম যেমন বিমান টিকিট এবং হাসপাতালের খরচ দ্রুত বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে কিছু স্বস্তি মিলেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলেও, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য সামগ্রিকভাবে দাম গত বছরের তুলনায় এখনও বেশি। আবাসন খাতে জানুয়ারিতে দাম বৃদ্ধি সীমিত ছিল, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
সামনের দিকের প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের মুদি দ্রব্যের দাম কমাচ্ছে, যা দেখায় গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের জন্য এখন প্রভাবশালী। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচন এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের সময়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















