শারজাহে মানুষের প্রাণের স্পন্দনের মতোই জেগে উঠেছে ২৩তম শারজাহ ঐতিহ্য দিবস। এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্যদিয়ে স্বতন্ত্র আরব ও আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। উৎসবের নগরীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন দেশের লোকজন মিলিত হয়ে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গল্প তুলে ধরছে, যা প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পর্ক তৈরি করছে।
উৎসবের পরিবেশ
উৎসবের জায়গাগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। পরিবারদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করা, পারিবারিক ঐতিহ্যভিত্তিক খাবার আদানপ্রদান এবং শিল্পকলা উপভোগের মাধ্যমে শিশুরা একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা লাভ করছে এবং তাদের পরিচয় ও সংযোজনের অনুভূতি আরও দৃঢ় করছে। শারজাহের ঐতিহ্যপূর্ণ বাস্তবতা শিশুদের জন্য যেন একটি জীবন্ত দলিলের মতো কাজ করছে। দেশি পোশাকে সেজে শিশুদের খেলা, হাসি ও গল্প তুলে ধরছে সাংস্কৃতিক ঐক্যের মর্ম।
শারজাহ পুলিশ অংশগ্রহণ
এবারের উৎসবে শারজাহ পুলিশ উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করেছে। তারা তাদের ঐতিহাসিক যাত্রা ও পুলিশি অভিজ্ঞতার বিবর্তন তুলে ধরে দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। পুরাতন পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস থেকে আজকের আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন পর্যন্ত সবকিছু এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই অংশগ্রহণটি নিরাপত্তার ইতিহাস ও সামাজিক দায়িত্বের ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে এবং দর্শকদের মধ্যে সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযুক্তি ও সচেতনতা গড়ে তুলছে।
সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা
এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ, যেখানে প্রতিটি দেশের লোককলা, নৃত্য, গান ও জীবনের গল্প দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করছে। এতে দর্শকেরা শুধু শারজাহর ঐতিহ্যই তুলে ধরছে না, বরং অন্যান্য দেশের রীতি-নীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও কাছ থেকে অনুভব করছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে অতীতকে জীবন্ত করে তোলা হয় এবং তা আধুনিকতার আলোয় আবারো নতুন করে প্রকাশ পায়।
উৎসবের দীর্ঘ সময় চলতে থাকা অনুষ্ঠানগুলি দর্শকদের মনে সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ জাগিয়ে তুলছে, এবং বহুদিন স্মৃতিতে রয়ে যাবে এমন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















