রংপুরে এমপিওভুক্তির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দিতে গিয়ে এক শিক্ষক হাতেনাতে আটক হয়েছেন। সোমবার বিকেলে নগরীর কাচারিবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজিকাটা দাতভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম খান উপপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে এক শিক্ষক ও তিন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি নগদ ৭ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, ঘটনাস্থল থেকেই মাইদুলের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা হয়।
উপপরিচালকের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মোসাম্মৎ রোকসানা আক্তার জানান, এর আগেও মাইদুল একই প্রস্তাব নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সোমবার আবার নগদ অর্থ নিয়ে এলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশকে অবহিত করেন।
তার অভিযোগের পরপরই দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশের একটি দল কার্যালয়ে পৌঁছে মাইদুলকে আটক করে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের বক্তব্য
দুর্নীতি দমন কমিশনের রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া জানান, ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে দুর্নীতির প্রশ্ন
এমপিওভুক্তি নিয়ে নানা অনিয়ম ও অভিযোগের মধ্যে রংপুরের এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিতে ঘুষ লেনদেনের চেষ্টা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















