২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। সাময়িক সরকারের সময়ে এই ধীরগতির প্রবণতা চলছেই, যা সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) জানায়, এডিপি খরচ ও প্রকল্প সম্পাদনের গতিবেগ পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি অর্থবছরে জুলাই–জানুয়ারিতে মোট খরচ হয়েছে ৫০,৫৫৬.২৯ কোটি টাকা, যা বার্ষিক বরাদ্দের ২১.১৮ শতাংশ মাত্র। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২১.৫২ শতাংশ।

পূর্ববর্তী কয়েক বছরের তুলনায় এ হার দৃশ্যমানভাবে কম। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে জুলাই–জানুয়ারিতে ২৭.১১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয় ৭৪,৪৬৪.১৯ কোটি টাকার খরচে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৭২,০৯০.২১ কোটি টাকা, বাস্তবায়ন হার ২৮.১৬ শতাংশ। ২০২১–২২ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৭১,৫৩২.৯৭ কোটি টাকা, বাস্তবায়ন হার ৩০.২১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের মোট এডিপি বরাদ্দ ২,৩৮,৬৯৫.৬৪ কোটি টাকা। গত বছর এই বরাদ্দ ছিল ২,৭৮,৮৮৮.৯০ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, এই বছরের হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিকে নির্দেশ করছে।
মাসিক ভিত্তিতে তথ্যও ধীরগতিকে প্রতিফলিত করছে। কেবল জানুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮,৬৭৯.৪২ কোটি টাকা, যা বার্ষিক বরাদ্দের মাত্র ৩.৬৪ শতাংশ। এর আগের বছরের জানুয়ারি মাসে খরচ হয়েছিল ৯,৮৭৪.৫৩ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৩.৫৫ শতাংশ।
প্রকল্প কর্মকর্তারা ধীরগতির জন্য প্রশাসনিক সমন্বয়, সতর্ক ব্যয় ব্যবস্থাপনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিলম্ব, ক্রয় কার্যক্রম, জমি অধিগ্রহণ এবং তহবিল মুক্তির দেরিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এডিপি অর্থনৈতিক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘমেয়াদি ধীরগতি সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে পাবলিক বিনিয়োগ নির্ভর খাতগুলোতে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বাকি মাসগুলোতে খরচের গতি বাড়বে, কারণ প্রথাগতভাবে বাজেট চক্রের শেষ দিকে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করে।
চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের বাস্তবায়নের গতিবেগ নির্ধারণ করবে সরকারের এই বছরের এডিপি ব্যবস্থাপনা পূর্ববর্তী বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখবে কি না, নাকি FY2025–26 হবে সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হারের বছর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















