০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীনে বাণিজ্যিক মহাকাশ প্রযুক্তিকে সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান শক্তিশালী চীনা নববর্ষ চাহিদা উজ্জীবিত করল স্বর্ণের গহনার বাজার বিচ্ছিন্ন ও প্রতিকূল উপত্যকা নিয়ে চীন-ভারতের কড়া বিবাদ কেন? হংকংয়ে চীনা নববর্ষে ভিড়, উৎসবমুখর শহরে ঢুকছে পর্যটকরা চীনে অর্থনৈতিক ধীরগতি: বছরের শেষের বোনাস ছোট হচ্ছে, আয় সীমিত হচ্ছে টাকা ১০,০০০ কোটি মূল্যের খাদ্য শিল্প বাংলাদেশে বিস্তৃত; আমাদের খাবার কি নিরাপদ? রামাদানের খাদ্যসামগ্রী বিক্রিতে দেশের জুড়ে মোবাইল ট্রাক কার্যক্রম শুরু করবে টি সি বি পিকেএসএফ যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত গড়ে তুলছে বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা “ডেটা সিটি” বিশাখাপত্তনামে, বিশ্ব ডিজিটাল প্রতিযোগিতায় বড় পালা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, সিঙ্গাপুরে ইন্টারপোলের গোপন যুদ্ধকক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে পাল্টা লড়াই

যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার, চীনের চাপের মুখে কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ বৈঠককে এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিউনিখে বৈঠক, সম্পর্ক আধুনিকায়নে জোর

মিউনিখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোটেগি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামো আধুনিকায়ন এবং সংবেদনশীল পণ্যের বাণিজ্য নিয়ে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

FM MOTEGI held a meeting with the Honorable Marco Rubio, Secretary of State  of the United States of America, during his visit to Munich, #Germany. They  held a candid exchange of views

 

চীনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ও উত্তেজনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যুতে সম্ভাব্য সহায়তার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বেইজিং টোকিওর ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়। জানুয়ারিতে চীন জাপানের প্রতি কিছু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশেষ করে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য সামরিক বা এমন কোনো খাতে সরবরাহ নিষিদ্ধ করা হয়, যা জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

টোকিও এসব পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। এতে আগে থেকেই টানাপোড়েনে থাকা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

US, Japan reaffirm FX commitments, leave room for interventions | Reuters

মিউনিখ সম্মেলনে পাল্টাপাল্টি বার্তা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আগ্রাসনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাকাইচিকে সামরিকতাবাদে না ফেরার সতর্কবার্তা দেন। তিনি তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের অবস্থানকে এশিয়ার জন্য বিপজ্জনক উন্নয়ন বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি উত্তেজনা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাপান সংলাপের পথ খোলা রাখতে চায় এবং কোনো যোগাযোগের চ্যানেল বন্ধ করা হবে না।

মিউনিখে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

নিরাপত্তা নীতিতে নতুন গতি

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাকাইচির বিরল সুপার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন জাপানের নিরাপত্তা নীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সাহস জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন কোইজুমি। তবে জনগণের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি বলেও তিনি স্বীকার করেন।

আগামী মার্চে তাকাইচির ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পরপরই ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

মিউনিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা, 'আমেরিকা ও ইউরোপ একসঙ্গেই থাকবে'  - Sangbad Kolkata

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–জাপান ঘনিষ্ঠতা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, পুরো এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ও তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে বাণিজ্যিক মহাকাশ প্রযুক্তিকে সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার, চীনের চাপের মুখে কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা

০১:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ বৈঠককে এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিউনিখে বৈঠক, সম্পর্ক আধুনিকায়নে জোর

মিউনিখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোটেগি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামো আধুনিকায়ন এবং সংবেদনশীল পণ্যের বাণিজ্য নিয়ে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

FM MOTEGI held a meeting with the Honorable Marco Rubio, Secretary of State  of the United States of America, during his visit to Munich, #Germany. They  held a candid exchange of views

 

চীনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ও উত্তেজনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যুতে সম্ভাব্য সহায়তার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বেইজিং টোকিওর ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়। জানুয়ারিতে চীন জাপানের প্রতি কিছু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশেষ করে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য সামরিক বা এমন কোনো খাতে সরবরাহ নিষিদ্ধ করা হয়, যা জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

টোকিও এসব পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। এতে আগে থেকেই টানাপোড়েনে থাকা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

US, Japan reaffirm FX commitments, leave room for interventions | Reuters

মিউনিখ সম্মেলনে পাল্টাপাল্টি বার্তা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আগ্রাসনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাকাইচিকে সামরিকতাবাদে না ফেরার সতর্কবার্তা দেন। তিনি তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের অবস্থানকে এশিয়ার জন্য বিপজ্জনক উন্নয়ন বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি উত্তেজনা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাপান সংলাপের পথ খোলা রাখতে চায় এবং কোনো যোগাযোগের চ্যানেল বন্ধ করা হবে না।

মিউনিখে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

নিরাপত্তা নীতিতে নতুন গতি

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাকাইচির বিরল সুপার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন জাপানের নিরাপত্তা নীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সাহস জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন কোইজুমি। তবে জনগণের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি বলেও তিনি স্বীকার করেন।

আগামী মার্চে তাকাইচির ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পরপরই ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

মিউনিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা, 'আমেরিকা ও ইউরোপ একসঙ্গেই থাকবে'  - Sangbad Kolkata

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–জাপান ঘনিষ্ঠতা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, পুরো এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ও তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।