চীনের গবেষকরা সামরিক ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক মহাকাশ প্রযুক্তি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য দ্বৈত-ব্যবহারের স্যাটেলাইট সিস্টেম তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই আহ্বান এসেছে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সঙ্গে সংযুক্ত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পক্ষ থেকে, যেখানে বলা হয়েছে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি increasingly সামরিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
মহাকাশ প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার বৃদ্ধি
উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থার প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়েছে। এটি পরীক্ষা করে তারা আরও উন্নত এবং দক্ষ কমান্ড সিস্টেম গড়ে তুলছে। সম্প্রতি মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টারের জন্য এক মিলিয়ন স্যাটেলাইট প্রেরণের আবেদন করেছে, যা তার স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করবে। বর্তমানে কোম্পানির প্রায় ১০,০০০ স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে। চীনা সরকার সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথে জটিলতা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি-র গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, “যখন বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট আধুনিক যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে, তখন সামরিক ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যে প্রচলিত সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মহাকাশ দ্রুত কৌশলগত প্রতিরোধের ক্ষেত্র থেকে কৌশলগত অপারেশনের দিকে পরিবর্তিত হচ্ছে।”

সামরিক-সামাজিক সমন্বয় ও প্রস্তুতি
গবেষকরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, “একটি সামরিক-সামাজিক সমন্বয় প্রক্রিয়া স্থাপন করা উচিত, যা সামরিক, বেসামরিক এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ সক্ষমতার উন্নয়নকে একত্রিত করবে। এর মাধ্যমে চীনের মহাকাশ স্থাপত্যের স্থায়িত্ব ও নমনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
নিবন্ধটি চীনের রাষ্ট্র প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত China Defence Conversion জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক রিমোট-সেন্সিং স্যাটেলাইট এবং সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার স্যাটেলাইট সামরিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের মতো ভূমিকা পালন করতে পারে। এগুলো সরকার এবং সেনাবাহিনীকে উচ্চ-মানের ছবি সরবরাহ করে যুদ্ধক্ষেত্র বিশ্লেষণ ও অন্যান্য কাজে সহায়তা করবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং চ্যালেঞ্জ
নিবন্ধে বলা হয়েছে যে আগামী দশকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ও বেসামরিক মহাকাশ কার্যক্রম নতুন উন্নয়নের পর্যায়ে প্রবেশ করবে। বিশেষত বাণিজ্যিক মহাকাশ উড়ান আরও দ্রুত এগোবে, এবং এর ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হবে। এটি বৈশ্বিক মহাকাশ শাসন ব্যবস্থার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, “এই প্রবণতার প্রতিক্রিয়ায়, চীনের উচিত স্পষ্ট কৌশলগত সচেতনতা বজায় রাখা এবং আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা, যাতে তারা নেতৃত্ব ধরে রাখতে এবং সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।”
বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের দ্রুত বৃদ্ধি
চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত সম্প্রতি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির মতো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাকাশ খাত গড়ে তোলা বিগত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের নতুন শিল্প ক্লাস্টারগুলির মধ্যে স্থান পেয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতা
এদিকে, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশের ভবিষ্যৎ আইনি কাঠামো নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ডিসেম্বর মাসে চীন জাতিসংঘের একটি সভায় ইঙ্গিত দিয়েছে যে, স্পেসএক্স নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তারা বলেছে যে স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথে প্রায় সংঘর্ষের দিকে চলে গেছে এবং জাতীয় আকাশসীমা ও আইন অগ্রাহ্য করেছে।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিমা মহাকাশ শক্তিগুলো তাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ফারাক আরও বাড়াচ্ছে। “বৃহৎ শক্তি প্রতিযোগিতা ক্রমশ মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, মহাকাশে সমতা বা সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন দেশের কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















