কিউবার রাজধানী হাভানার রাস্তাগুলো এখন আবর্জনার পাহাড়ে ঢেকে যাচ্ছে, যেখানে গর্জন করছে মাছি এবং ছড়িয়ে পড়ছে পচা খাবারের গন্ধ। তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় শহরের সরকারি আবর্জনা সংগ্রহ ট্রাকগুলো অধিকাংশই থেমে গেছে, ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নতুন হুমকি দেখা দিয়েছে।
তেলের ঘাটতি আর আবর্জনা ঝাঁকুনি
হাভানায় মোট ১০৬টি আবর্জনা সংগ্রহ ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৪৪টি ট্রাকই গত কয়েকদিন ধরে কাজ শুরু করতে পেরেছে, বাকি ট্রাকগুলো তেলের অভাবে গত হতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন কোণে পচা প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের বাক্স ও ব্যাগসহ বিভিন্ন পচনশীল বর্জ্য জমে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা নিজ উদ্যোগে সেই বর্জ্যের মধ্যে থেকে পুনঃব্যবহার উপযোগী কিছু বাছাই করার চেষ্টা করছেন, আর রোডে যাতায়াতকারীরা এসব পাহাড়ের আশেপাশে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি
জানাজানি মতে, গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোন আবর্জনা সংগ্রহ ট্রাক প্রবেশ করেনি হাভানার সড়কে, এবং এটি শহরের প্রায় সব এলাকায় একই রকম অবস্থা তৈরি করছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শহরের আবর্জনা সংকটজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করছেন। কিউবা ইতোমধ্যেই খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের বড় সংকটে দাড়িয়েছে, এবং এই নতুন স্যানিটেশন সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করছে।
তেলের রাশট্রীয় সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
কয়েক মাসের মধ্যে কিউবার তেলের সরবরাহ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। একসময় তেল সরবরাহকারী ছিল ভেনেজুয়েলা, কিন্তু মাঝ ডিসেম্বর থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। মেক্সিকোর মতো দেশগুলো শুল্ক হুমকি ও অন্যান্য চাপের কারণে সরবরাহ স্থগিত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভবিষ্যতে কিউবার তেলের চালান পাঠাতে পারে, যদিও তার নির্দিষ্ট সময় জানা নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নীতি ও শুল্ক হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক পরিবেশে কিউবার ওপর চাপ নিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবিক উদ্বেগ
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কিউবার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে সংলাপ ও সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও অর্থনৈতিক বাধা কিউবার নাগরিকদের সামাজিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন করছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















