রাশিয়ার তেল শিল্প এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলোর কড়া চাপের কারণে দেশটির তেল রফতানি সীমিত হচ্ছে এবং স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ক্রেমলিনের অর্থনীতি আরও দুর্বল করতে পারে।
রফতানি চাপের মধ্যে
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার কাঁচা তেলের রফতানি গত কয়েক বছর স্থিতিশীল ছিল। মস্কো মূলত চীন, ভারত ও তুরস্কের দিকে তেল পাঠাতে সমর্থ হয়েছিল। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক আরোপের কারণে রফতানি গত কয়েক মাসে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের পর দেশটির তেলের চাহিদা কমে গেছে।
জাহাজের মাধ্যমে রফতানি জানুয়ারিতে ৩.৪ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক থেকে ফেব্রুয়ারিতে ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। একই সময়ে, সমুদ্রে রাখা রাশিয়ান তেলের পরিমাণ নতুন রেকর্ড গড়ে ১৫০ মিলিয়ন ব্যারেলের ওপরে উঠেছে, যা ক্রেতাদের দুর্বল চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারতের রফতানি হ্রাস
ভারতের রাশিয়ান তেলের বড় ক্রেতা হিসাবে চাহিদা হ্রাস পেতে পারে। গত বছর ভারত প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক তেল কিনেছিল, যা রাশিয়ার সামুদ্রিক রফতানির অর্ধেকের সমান। জানুয়ারিতে তা ১.১ মিলিয়ন ব্যারেল নেমে গেছে। মার্চ থেকে এই চাহিদা আরও কমে যেতে পারে। ভারতের বড় তেল রিফাইনারিগুলো ক্রয় বন্ধ করেছে, তবে কিছু রিফাইনার সীমিত পরিমাণে তেল কিনতে থাকতে পারে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব
ক্রয় হ্রাস রাশিয়ার তেল লজিস্টিকসেও প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা জাহাজের যাত্রা এবং সমুদ্রতটে সংরক্ষিত তেলের বৃদ্ধি উৎপাদকদেরকে দেশীয় স্টোরেজে তেল জমাতে বাধ্য করছে। বর্তমানে মাটির উপরে স্টোরেজ প্রায় ৫১% পূর্ণ। অনলাইন মনিটরিং অনুযায়ী, পাইপলাইন ব্যবহার করলে মোট স্টোরেজ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত হতে পারে। তবে রফতানি সীমিত থাকলে উৎপাদন হ্রাসের ছাড়া বিকল্প নেই।
বাজেটের ওপর চাপ
রাশিয়ার তেল উৎপাদন মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেতে পারে। তেল ও গ্যাস থেকে প্রাপ্ত আয় দেশের বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ায় বাজেট ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন হ্রাস এবং তেলের ওপর ছাড় আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে, যা পশ্চিমারা চাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















