মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জেনেভায় নির্ধারিত পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে এশিয়ার আর্থিক বাজারে দেখা দিয়েছে সতর্ক অবস্থান। চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেন কম থাকায় বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ছিল না। তেলের দামেও দেখা গেছে মিশ্র চিত্র, যা বিনিয়োগকারীদের দোলাচলকেই স্পষ্ট করে।
ছুটির কারণে কম লেনদেন, তবু সূচকে ওঠানামা
চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্টস ডে উপলক্ষে আগের দিন বাজার বন্ধ ছিল। ফলে সামগ্রিক লেনদেন ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত।
জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ নিচে নেমেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচক সামান্য শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারেও চাপ ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।

বন্ড ও মুদ্রাবাজারে নড়াচড়া
দশ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন সামান্য কমেছে। জাপানেও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলনে পতন দেখা গেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ড নিলামে দুর্বল চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে।
ডলার সূচক প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও আগের দিনের সামান্য উত্থানের প্রভাব রয়ে গেছে। জাপানি ইয়েন ডলারের বিপরীতে কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
জাপানের অর্থনীতিতে ধাক্কা, বাড়তে পারে প্রণোদনা
জাপানের সর্বশেষ জিডিপি পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দুর্বল এসেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি বার্ষিক ভিত্তিতে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে পূর্বাভাস ছিল শূন্য দশমিক ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারি ব্যয়ের প্রভাব অর্থনৈতিক গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এই দুর্বলতা সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে আর্থিক প্রণোদনা জোরদার ও খাদ্যে বিক্রয় কর কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আপাতত সীমিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা
মার্কিন-ইরান আলোচনা শুরুর আগে তেলের বাজারে ছিল মিশ্র প্রবণতা। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এশীয় লেনদেনে কমেছে। এর পেছনে রয়েছে ওপেক প্লাস জোটের সম্ভাব্য সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ-মহড়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়াম ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে বা আলোচনায় অগ্রগতি হয়, তাহলে তেলের দামে থাকা অতিরিক্ত ঝুঁকির চাপ দ্রুত কমে যেতে পারে।
স্বর্ণের দামে পতন
ডলারের শক্ত অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দামে পতন হয়েছে। ডলারে মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। রূপার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এশিয়ার বাজারে সতর্ক মনোভাব তৈরি করেছে। আলোচনার অগ্রগতি বা ব্যর্থতা আগামী দিনগুলোতে বাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















