০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

অস্ট্রেলিয়া আইএস জঙ্গিদের পরিবারের প্রত্যাবর্তনে ‘না’

সিরিয়ার একটি শিবিরে আটক আইএস-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের পরিবারকে দেশে ফেরাতে সরাসরি সহায়তা দেবে না অস্ট্রেলিয়া। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার কোনও পুনর্বাসন বা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে না। তবে কেউ যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে আসে এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাহলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

সিরিয়ার রোজ শিবির থেকে সোমবার ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়কে ছেড়ে দেওয়া হলেও ‘কারিগরি কারণে’ পরে তাদের আবার আটককেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে যাদের অনেককে ‘আইএস কনে’ বলা হয়, তাদের শেষ পর্যন্ত দামেস্ক হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে।

Australian ISIL relatives sent back to Syria’s Roj camp after release

সরকারের কঠোর অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এ বিষয়ে খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছে। কোনও সহায়তা বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, সংশ্লিষ্ট কেউ আইন ভঙ্গ করে থাকলে এবং দেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে আইন প্রয়োগ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ায় আইএস একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সংগঠনের সদস্যপদ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতাও সরকারের হাতে আছে।

Australia rules out helping families of IS militants leave Syrian camp

 

রাজনীতিতে ডানপন্থী উত্থান

আইএস-সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী দল ওয়ান নেশন এ বিতর্কে জোরালো অবস্থান নিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। দলের নেতা পলিন হ্যানসন পশ্চিমা দেশবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, যা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশন দলের সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিরোধী জোটের ঐতিহ্যবাহী মধ্য-ডানপন্থী শক্তির সমর্থনের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দলটি। এদিকে লিবারেল দলের সিনেটর সারাহ হেন্ডারসন বলেছেন, যারা আইএস মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

Australia rules out helping families of IS militants leave Syrian camp |  Reuters

আইন ও নাগরিক অধিকার

তবে আইনি বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। ফলে সরকার সরাসরি সহায়তা না দিলেও, কেউ দেশে ফিরতে পারলে তাকে পুরোপুরি ঠেকানো আইনগতভাবে জটিল হতে পারে।

সব মিলিয়ে সিরিয়ার শিবিরে আটক অস্ট্রেলীয় পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবিক ও আইনি প্রশ্ন—দুইয়ের টানাপোড়েনে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

অস্ট্রেলিয়া আইএস জঙ্গিদের পরিবারের প্রত্যাবর্তনে ‘না’

০৩:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার একটি শিবিরে আটক আইএস-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের পরিবারকে দেশে ফেরাতে সরাসরি সহায়তা দেবে না অস্ট্রেলিয়া। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার কোনও পুনর্বাসন বা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে না। তবে কেউ যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে আসে এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাহলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

সিরিয়ার রোজ শিবির থেকে সোমবার ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়কে ছেড়ে দেওয়া হলেও ‘কারিগরি কারণে’ পরে তাদের আবার আটককেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে যাদের অনেককে ‘আইএস কনে’ বলা হয়, তাদের শেষ পর্যন্ত দামেস্ক হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে।

Australian ISIL relatives sent back to Syria’s Roj camp after release

সরকারের কঠোর অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এ বিষয়ে খুবই দৃঢ় অবস্থানে আছে। কোনও সহায়তা বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, সংশ্লিষ্ট কেউ আইন ভঙ্গ করে থাকলে এবং দেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে আইন প্রয়োগ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ায় আইএস একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সংগঠনের সদস্যপদ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতাও সরকারের হাতে আছে।

Australia rules out helping families of IS militants leave Syrian camp

 

রাজনীতিতে ডানপন্থী উত্থান

আইএস-সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী দল ওয়ান নেশন এ বিতর্কে জোরালো অবস্থান নিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। দলের নেতা পলিন হ্যানসন পশ্চিমা দেশবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, যা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ওয়ান নেশন দলের সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিরোধী জোটের ঐতিহ্যবাহী মধ্য-ডানপন্থী শক্তির সমর্থনের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দলটি। এদিকে লিবারেল দলের সিনেটর সারাহ হেন্ডারসন বলেছেন, যারা আইএস মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

Australia rules out helping families of IS militants leave Syrian camp |  Reuters

আইন ও নাগরিক অধিকার

তবে আইনি বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। ফলে সরকার সরাসরি সহায়তা না দিলেও, কেউ দেশে ফিরতে পারলে তাকে পুরোপুরি ঠেকানো আইনগতভাবে জটিল হতে পারে।

সব মিলিয়ে সিরিয়ার শিবিরে আটক অস্ট্রেলীয় পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবিক ও আইনি প্রশ্ন—দুইয়ের টানাপোড়েনে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।