মিলানের বরফমঞ্চে যেন রূপকথা লেখা হল। এক রাত আগেও যাদের মুখে হতাশা, তারাই পরদিন ইতিহাস গড়লেন। রিকু মিউরা ও রিউইচি কিহারা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে জাপানকে এনে দিলেন অলিম্পিকে প্রথম জোড়া ফিগার স্কেটিং সোনা।
মিলানো কর্টিনা ২০২৬ অলিম্পিকের জোড়া বিভাগে পঞ্চম স্থান থেকে উঠে এসে সবার চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে শিরোপা জয় করেন এই জুটি। ফ্রি প্রোগ্রামে তারা গড়েন ১৫৮.১৩ পয়েন্টের বিশ্বরেকর্ড, যা ২০১৮ সালের পর পরিবর্তিত স্কোরিং পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে তাদের মোট স্কোর দাঁড়ায় ২৩১.২৪।

নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানো
শর্ট প্রোগ্রামে ভুলের কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন মিউরা ও কিহারা। লাসো লিফটে সামান্য ভুলে পয়েন্ট হারিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে যান তারা। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন স্বপ্ন শেষ। কিন্তু কোচ ব্রুনো মারকোটের এক কথাই বদলে দেয় সবকিছু—শেষ হয়নি কিছুই।
ফ্রি প্রোগ্রামে তারা যেন নতুন রূপে হাজির হন। শুরুতেই নিখুঁত ট্রিপল টুইস্ট লিফট, তারপর দারুণ সমন্বয়ে ট্রিপল টো লুপ ও সালখো। বিশাল থ্রো ট্রিপল লুটজ ও থ্রো ট্রিপল লুপে দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। শেষ সুর থামার আগেই মিলানের বরফমঞ্চ গর্জে ওঠে করতালিতে।
অবিশ্বাস থেকে অশ্রু
স্কোর ঘোষণার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কিহারা। বরফেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। প্রায় ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সোনা নিশ্চিত হওয়ার পর জাপানি এই জুটি একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। চোখের জলে ধুয়ে যায় আগের দিনের হতাশা।
মিউরা বলেন, আগের দিনের বড় ভুলের পর এমন উচ্চতায় ফিরে আসতে পারা তাদের জন্য গর্বের। কিহারা জানান, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে জাপান জোড়া স্কেটিংয়ে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক পদক জিতল। তাদের আশা, এই সাফল্য ভবিষ্যতে জাপানের স্কেটিংকে আরও এগিয়ে নেবে।
কোচের অনুপ্রেরণা
মারকোট শিষ্যদের মনে করিয়ে দেন ২০১৮ অলিম্পিকে জার্মান জুটি আলজোনা সাভচেঙ্কো ও ব্রুনো মাসোর ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের কথা। সেদিনও সাত পয়েন্ট পিছিয়ে থেকেও জয় এসেছিল। সেই উদাহরণই অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে মিউরা-কিহারার জন্য।
রুপা ও ব্রোঞ্জ কারা পেলেন
জর্জিয়ার আনাস্তাসিয়া মেতেলকিনা ও লুকা বেরুলাভা ২২১.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে রুপা জিতে নেন। এটি শীতকালীন অলিম্পিকে জর্জিয়ার প্রথম পদক। জার্মানির মিনার্ভা ফাবিয়েন হাসে ও নিকিতা ভোলোদিন ২১৯.০৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পান, যদিও শর্ট প্রোগ্রামের পর তারাই এগিয়ে ছিলেন।

অন্যান্যদের লড়াই
চীনের ২০২২ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সুই ওয়েনজিং ও হান কং পঞ্চম স্থানে শেষ করেন। কানাডার ডিয়ানা স্টেলাটো-দুদেক ও ম্যাক্সিম দেশঁ একাদশ হন। ৪২ বছর বয়সী স্টেলাটো-দুদেক প্রায় ১৬ বছর বিরতির পর ফিরে এসে অলিম্পিকে অংশ নেন, যা নিজেই এক অনন্য গল্প।

ইতিহাসের পাতায় জাপান
এই জয় শুধু একটি স্বর্ণপদক নয়, জাপানের জোড়া ফিগার স্কেটিংয়ের জন্য নতুন দিগন্ত। কঠিন মুহূর্ত পেরিয়ে যে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, মিলানে তারই উজ্জ্বল উদাহরণ গড়লেন রিকু মিউরা ও রিউইচি কিহারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















