০৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

অভিনেত্রীর ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্টে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সামনে এলো তরুণ বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা

ইন্দোনেশিয়ায় এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়ে নিজের প্রোফাইল হালনাগাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অনেক তরুণ চাকরিপ্রার্থীর মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভয়াবহ তরুণ বেকারত্ব ও সুযোগের বৈষম্য আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

কী ছিল সেই পোস্টে

২৯ বছর বয়সী জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিলি লাতুকনসিনা সম্প্রতি জানান, তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর তিনি লেখেন, চলচ্চিত্র জগতের বাইরে বিক্রয় খাতে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। এ কারণে তিনি নিজের পেশাজীবী প্রোফাইলে কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা যুক্ত করেন।

তিনি ভেবেছিলেন, বিষয়টি ইতিবাচক সাড়া পাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটি।

Indonesia's unemployment numbers rise to 6.88 million in February -  Business - The Jakarta Post

মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সমালোচনা

পোস্টটি দ্রুত বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করেন। অনেকেই বলেন, যেখানে সাধারণ তরুণরা মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর চাকরি খুঁজেও ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার এমন ঘোষণা সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

অনেকে এটিকে সাধারণ মানুষের কষ্টকে হালকা করে দেখার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।

প্রচারণা ভেস্তে গেল

পরে জানা যায়, পুরো বিষয়টি ছিল একটি ব্র্যান্ড সহযোগিতার অংশ। কিন্তু সমালোচনার ঝড় থামেনি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচারণা বাতিল করা হয়।

এই ঘটনা শুধু একজন অভিনেত্রীকে ঘিরে নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।

Indonesian Job Seeker Fills Application Form Editorial Stock Photo - Stock  Image | Shutterstock Editorial

ভয়াবহ তরুণ বেকারত্বের চিত্র

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ বেকারত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।

১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটিতে তরুণ বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের নিচে নামেনি। ফলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি পান না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা: শত আবেদনেও কাজ নেই

২২ বছর বয়সী এক তরুণী জানান, তিনি স্নাতক শেষ করে এক বছরের ইন্টার্নশিপ করছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক চাকরির আবেদন করেও কোনো প্রস্তাব পাননি। অভিনেত্রীর পোস্ট দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, চাকরি খোঁজা কোনো প্রচারণা নয়, এটি জীবনের কঠিন সংগ্রাম।

Apindo: Not Enough New Jobs Created

কেন এত প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের অসংখ্য তরুণ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ফলে একজন তারকার প্রতীকী পদক্ষেপ অনেকের কাছে বাস্তব সমস্যাকে ছোট করে দেখানোর মতো মনে হয়েছে।

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ও মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

অভিনেত্রীর ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্টে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সামনে এলো তরুণ বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা

০১:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়ে নিজের প্রোফাইল হালনাগাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অনেক তরুণ চাকরিপ্রার্থীর মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভয়াবহ তরুণ বেকারত্ব ও সুযোগের বৈষম্য আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

কী ছিল সেই পোস্টে

২৯ বছর বয়সী জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিলি লাতুকনসিনা সম্প্রতি জানান, তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর তিনি লেখেন, চলচ্চিত্র জগতের বাইরে বিক্রয় খাতে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। এ কারণে তিনি নিজের পেশাজীবী প্রোফাইলে কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা যুক্ত করেন।

তিনি ভেবেছিলেন, বিষয়টি ইতিবাচক সাড়া পাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটি।

Indonesia's unemployment numbers rise to 6.88 million in February -  Business - The Jakarta Post

মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সমালোচনা

পোস্টটি দ্রুত বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করেন। অনেকেই বলেন, যেখানে সাধারণ তরুণরা মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর চাকরি খুঁজেও ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার এমন ঘোষণা সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

অনেকে এটিকে সাধারণ মানুষের কষ্টকে হালকা করে দেখার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।

প্রচারণা ভেস্তে গেল

পরে জানা যায়, পুরো বিষয়টি ছিল একটি ব্র্যান্ড সহযোগিতার অংশ। কিন্তু সমালোচনার ঝড় থামেনি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচারণা বাতিল করা হয়।

এই ঘটনা শুধু একজন অভিনেত্রীকে ঘিরে নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।

Indonesian Job Seeker Fills Application Form Editorial Stock Photo - Stock  Image | Shutterstock Editorial

ভয়াবহ তরুণ বেকারত্বের চিত্র

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ বেকারত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।

১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটিতে তরুণ বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের নিচে নামেনি। ফলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি পান না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা: শত আবেদনেও কাজ নেই

২২ বছর বয়সী এক তরুণী জানান, তিনি স্নাতক শেষ করে এক বছরের ইন্টার্নশিপ করছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক চাকরির আবেদন করেও কোনো প্রস্তাব পাননি। অভিনেত্রীর পোস্ট দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, চাকরি খোঁজা কোনো প্রচারণা নয়, এটি জীবনের কঠিন সংগ্রাম।

Apindo: Not Enough New Jobs Created

কেন এত প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের অসংখ্য তরুণ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ফলে একজন তারকার প্রতীকী পদক্ষেপ অনেকের কাছে বাস্তব সমস্যাকে ছোট করে দেখানোর মতো মনে হয়েছে।

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ও মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।