ইন্দোনেশিয়ায় এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়ে নিজের প্রোফাইল হালনাগাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অনেক তরুণ চাকরিপ্রার্থীর মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভয়াবহ তরুণ বেকারত্ব ও সুযোগের বৈষম্য আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
কী ছিল সেই পোস্টে
২৯ বছর বয়সী জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিলি লাতুকনসিনা সম্প্রতি জানান, তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর তিনি লেখেন, চলচ্চিত্র জগতের বাইরে বিক্রয় খাতে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। এ কারণে তিনি নিজের পেশাজীবী প্রোফাইলে কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা যুক্ত করেন।
তিনি ভেবেছিলেন, বিষয়টি ইতিবাচক সাড়া পাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটি।

মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সমালোচনা
পোস্টটি দ্রুত বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করেন। অনেকেই বলেন, যেখানে সাধারণ তরুণরা মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর চাকরি খুঁজেও ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার এমন ঘোষণা সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।
অনেকে এটিকে সাধারণ মানুষের কষ্টকে হালকা করে দেখার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।
প্রচারণা ভেস্তে গেল
পরে জানা যায়, পুরো বিষয়টি ছিল একটি ব্র্যান্ড সহযোগিতার অংশ। কিন্তু সমালোচনার ঝড় থামেনি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচারণা বাতিল করা হয়।
এই ঘটনা শুধু একজন অভিনেত্রীকে ঘিরে নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।
ভয়াবহ তরুণ বেকারত্বের চিত্র
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ বেকারত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।
১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটিতে তরুণ বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের নিচে নামেনি। ফলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি পান না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: শত আবেদনেও কাজ নেই
২২ বছর বয়সী এক তরুণী জানান, তিনি স্নাতক শেষ করে এক বছরের ইন্টার্নশিপ করছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক চাকরির আবেদন করেও কোনো প্রস্তাব পাননি। অভিনেত্রীর পোস্ট দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, চাকরি খোঁজা কোনো প্রচারণা নয়, এটি জীবনের কঠিন সংগ্রাম।
:quality(75)/https://cdn-dam.kompas.id/images/2025/05/30/c685bbf13ca1a6c9c925565ae3b8c8cd-20250519TOK23.jpg)
কেন এত প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের অসংখ্য তরুণ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ফলে একজন তারকার প্রতীকী পদক্ষেপ অনেকের কাছে বাস্তব সমস্যাকে ছোট করে দেখানোর মতো মনে হয়েছে।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ও মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















