দক্ষিণ সুদানের শান্তিচেতা নেতা পিটার বিয়ার আজাক মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছেন যে তিনি অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন যাতে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করা যায়।
দক্ষিণ সুদান আজও ক্রমাগত সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিবেশেই এই ঘটনা সামনে এসেছে। পিটার বিয়ার আজাক ২০০১ সালে এক ‘লস্ট বয়’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবিক কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনে দেশটি বদলাতে চেয়েছিলেন।
জীবন থেকে দমন, শান্তির কাজ থেকে অভিযোজন
পিটার আজাক সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিসর থেকে বহু কষ্টে পালিয়ে হাই স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ব ব্যাংকে অর্থনীতিবিদ হিসেবেও কাজ করেন তিনি। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ায় তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং সরকারবিরোধী কণ্ঠ হয়ে উঠেন। ২০১৮ সালে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে বন্দি হন। কারামুক্তির পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান।
অস্ত্র ব্যবস্থাপনা ও অভ্যুত্থান পরিকল্পনা
নাগরিক ভূমিকা ও মানবিক সহায়তা জন্য অর্থের প্রয়োজন জানিয়ে আজাক যোগাযোগ করেন এক ওয়াল স্ট্রিট ফাইনান্সিয়ারের সঙ্গে। কিন্তু আসলে তিনি চাইছিলেন মিলিয়ন ডলার মূল্যের মিসাইল, গ্রেনেড লঞ্চার ও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে অভ্যুত্থান ঘটাতে। তিনি গোপনে একটি পরিকল্পনা মেমো তৈরি করেন যার নাম দেন ‘অপারেশন ফ্রি সাউথ সুদান’।
ফেডারেল আদালতে তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি অস্ত্র আনার আর্থিক সুবিধা মানবিক সহায়তা বলে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৪ সালে একটি অস্ত্র গুদামে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হন।
আদালতের রায়ে শাস্তি ও পরিণতি
মার্কিন আদালত তাকে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে এবং তিনি ইতোমধ্যে শাস্তির একটি অংশ নির্বাহ করেছেন। পাশাপাশি তিন বছরের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। তাঁর আইনজীবী কোনও মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন।
এ ঘটনায় দক্ষিণ সুদানের স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করা অন্যদের কাজও প্রভাবিত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















