০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটক ভিসা, সিঙ্গাপুরে ফিলিপিনো , এশিয়ার ৭টি হাইলাইট ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা: হরমুজ প্রণালী অর্ধেক বন্ধ, উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভার কূটনৈতিক বৈঠক চীনের অজানা ট্রাক নির্মাতার ওপর এক ঝুঁকিপূর্ণ বাজি কীভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় সফল হল ইরানে নজরদারির জাল আরও বিস্তৃত, মোবাইলের তথ্য আর মুখ চিনে ধরপাকড়ে নতুন কৌশল ভগবান ও ৬ নাম্বার বাস ফ্রান্সের আরব বিশ্ব ইনস্টিটিউটে পুলিশ তল্লাশি, এপস্টেইনের ছায়া জ্যাক ল্যাং জেসি জ্যাকসন: আমেরিকার সিভিল রাইটস নেতা ও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী আর নেই বড় শক্তি সংঘর্ষে ঝুঁকিতে আসিয়ান জলসীমার নিরাপত্তা গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে রিট আবেদন জমা বিএনপির নতুন মন্ত্রিপরিষদে জ্যেষ্ঠ নেতারা বাদ, চমক সৃষ্টি করল দলীয় অঙ্গনে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা: হরমুজ প্রণালী অর্ধেক বন্ধ, উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভার কূটনৈতিক বৈঠক

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিবাদ সমাধানে দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার ঠিক একই দিনে ইরান ঘোষণা করেছে যে নিরাপত্তা মহড়ার কারণে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। এটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ এবং এর অস্থায়ী বন্ধ বিশ্ব বাজারে তেলের দামকে প্রভাবিত করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ও সামরিক প্রস্তুতি

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়ার ফলে হরমুজ প্রণালীর অংশগুলো অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরান পূর্বেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যদি তার ওপর আক্রমণ চালানো হয় তবে তারা প্রণালী বন্ধ করতে পারে, যা বিশ্বের তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি যাচাই করা এবং তার অঞ্চলের নিরাপত্তা শক্তিশালী করা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের চেষ্টা ইরানের সরকার উৎখাত করার হবে ব্যর্থ। তার বক্তব্য, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো এমন আঘাত পেতে পারে যা থেকে ওঠা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তির ওপর গর্ব করে, কিন্তু তারা সবসময় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।”

জেনেভায় আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ

জেনেভায় আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে সমঝোতা তৈরি করা। ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের পারমাণবিক প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তবে তারা সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি বন্ধ করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র, তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে মিলিত হয়ে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক চাপ দেখিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজনে সপ্তাহব্যাপী অপারেশন চালানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। আলোচনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা একে অপরের অবস্থান জানাচ্ছেন। ইরান আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত দাবি করবে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ক্ষেত্রে সত্যিকারের ইচ্ছা দেখাবে।

অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ ও অর্থনৈতিক সংকট

ইরানের সরকার অভ্যন্তরে প্রতিবাদের সম্মুখীন, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে জন্মেছে। জনগণের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় নানা শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেগুলো কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরানকে আলোচনায় সমঝোতাকারী ভূমিকা নিতে বাধ্য করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব

হরমুজ প্রণালীর অস্থায়ী বন্ধ এবং জেনেভার আলোচনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার ফলাফল বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে এবং তেলের সরবরাহ ও দামকে প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ একসাথে দেশের কূটনৈতিক নীতি এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার ফলাফল সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার পর্যটক ভিসা, সিঙ্গাপুরে ফিলিপিনো , এশিয়ার ৭টি হাইলাইট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা: হরমুজ প্রণালী অর্ধেক বন্ধ, উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভার কূটনৈতিক বৈঠক

১১:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিবাদ সমাধানে দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার ঠিক একই দিনে ইরান ঘোষণা করেছে যে নিরাপত্তা মহড়ার কারণে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। এটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ এবং এর অস্থায়ী বন্ধ বিশ্ব বাজারে তেলের দামকে প্রভাবিত করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ও সামরিক প্রস্তুতি

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়ার ফলে হরমুজ প্রণালীর অংশগুলো অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরান পূর্বেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যদি তার ওপর আক্রমণ চালানো হয় তবে তারা প্রণালী বন্ধ করতে পারে, যা বিশ্বের তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি যাচাই করা এবং তার অঞ্চলের নিরাপত্তা শক্তিশালী করা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের চেষ্টা ইরানের সরকার উৎখাত করার হবে ব্যর্থ। তার বক্তব্য, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো এমন আঘাত পেতে পারে যা থেকে ওঠা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তির ওপর গর্ব করে, কিন্তু তারা সবসময় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।”

জেনেভায় আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ

জেনেভায় আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে সমঝোতা তৈরি করা। ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের পারমাণবিক প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তবে তারা সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি বন্ধ করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র, তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে মিলিত হয়ে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক চাপ দেখিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজনে সপ্তাহব্যাপী অপারেশন চালানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। আলোচনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা একে অপরের অবস্থান জানাচ্ছেন। ইরান আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত দাবি করবে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ক্ষেত্রে সত্যিকারের ইচ্ছা দেখাবে।

অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ ও অর্থনৈতিক সংকট

ইরানের সরকার অভ্যন্তরে প্রতিবাদের সম্মুখীন, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে জন্মেছে। জনগণের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় নানা শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেগুলো কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরানকে আলোচনায় সমঝোতাকারী ভূমিকা নিতে বাধ্য করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব

হরমুজ প্রণালীর অস্থায়ী বন্ধ এবং জেনেভার আলোচনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার ফলাফল বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে এবং তেলের সরবরাহ ও দামকে প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ একসাথে দেশের কূটনৈতিক নীতি এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার ফলাফল সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।