চীনের দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র CJ-1000 উন্মোচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে বেইজিং। মূল ভূখণ্ডের একটি সামরিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যকর স্ক্র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থায় চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে।
উন্নত স্ক্র্যামজেট প্রযুক্তির প্রদর্শন
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো CJ-1000 ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হয়। জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য YJ-19-এর পাশাপাশি এটিই ছিল উন্নত এয়ার-ব্রিদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনচালিত দুই হাইপারসনিক অস্ত্রের একটি।
CJ-1000 একটি সড়ক-চলমান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা দীর্ঘ দূরত্বে উচ্চগতির আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্বে বিরল সক্ষমতা
বর্তমানে রাশিয়ার জাহাজভিত্তিক 3M22 ‘জিরকন’ ছাড়া স্ক্র্যামজেটচালিত কার্যকর হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে CJ-1000 ও YJ-19-ই একমাত্র বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে CJ-1000 বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এ ধরনের প্রযুক্তির প্রথম স্থলভিত্তিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন স্ক্র্যামজেট এত গুরুত্বপূর্ণ
ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত Shipborne Weapons সাময়িকীর বিশ্লেষণে বলা হয়, হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল—যেমন চীনের DF-17 বা রাশিয়ার Avangard—এর তুলনায় স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত, যদিও এটি তৈরি করা অনেক বেশি জটিল।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, CJ-1000-এর আবির্ভাব দেখাচ্ছে যে চীন আর শুধু অনুসরণ করছে না; বরং মহাকাশ ও উচ্চগতির অস্ত্র প্রযুক্তির সবচেয়ে অগ্রসর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দিকে এগোচ্ছে।
বিমান প্রতিরক্ষার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
স্ক্র্যামজেটচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় ক্রুজ করে, যা গ্লাইড ভেহিকলের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার উচ্চতার তুলনায় অনেক নিচে।
ক্ষেপণাস্ত্র যত নিচু দিয়ে উড়ে, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারের জন্য তা শনাক্ত ও প্রতিক্রিয়া জানানো তত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্যমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় চাপে ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















