লুনার নববর্ষের ছুটিতে গুয়াংডং প্রদেশের শত শত চালক হংকংয়ের নগর এলাকায় প্রবেশ করে ভিন্নধর্মী দর্শন ও উৎসবের কেনাকাটায় মেতে উঠেছেন। “সাউথবাউন্ড ট্রাভেল ফর গুয়াংডং ভেহিকলস” কর্মসূচির আওতায় ছুটির শুরুতেই ৫০০টির বেশি গাড়ি শহরে ঢুকেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগর এলাকায় ব্যতিক্রমী ভ্রমণ
ছুটির সময় দক্ষিণমুখী এই ভ্রমণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০০ মোটরচালকের মধ্যে অনেকে হংকং শহরের বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে ঘুরে বেড়ান। এফটি-প্রিফিক্স নম্বরপ্লেটযুক্ত বাম-হাতচালিত গাড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় একটি মিনি কুপার কাউলুন পিক ভিউপয়েন্টে থামতে দেখা যায়, আর একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ শিং মুন কান্ট্রি পার্কে গিয়ে বানর দেখেছে।

গাড়িপ্রেমীদের আলাদা আগ্রহ
গুয়াংঝুর বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী হ্যারি লিউ ১৪ ফেব্রুয়ারি একদিনের সফরে হংকংয়ে আসেন। মার্সিডিজ-বেঞ্জের মালিক এই তরুণ জানান, হংকংয়ের গাড়ি সংস্কৃতির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় মালিকরা কীভাবে তাদের গাড়ি পরিবর্তন করেন এবং এ নিয়ে কথা বলতেই তিনি এই সফরে আসেন।
খরচ বাঁচাতে লিউ হংকংয়ে না থেকে ঝুহাইয়ে রাত কাটান। এর আগে লুনার নববর্ষের আগেও তিনি একবার এই কর্মসূচির আওতায় শহরে এসে হংকংয়ের স্কাইলাইনের সামনে নিজের গাড়ির ছবি তুলেছিলেন।
সর্বশেষ সফরে তিনি বিকেলে এসে শেক ও গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন, সেন্ট্রালের একটি পুরোনো গাড়ির দোকানে যান এবং স্থানীয় গাড়িপ্রেমীদের পরিবর্তন কৌশল সম্পর্কে জানেন। পাশাপাশি তিনি একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ শোরুমে গিয়ে দুই পাশের সীমান্তে পাওয়া মডেলগুলোর তুলনাও করেন।
টোল মওকুফে ভ্রমণ বেড়েছে
১৫ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লুনার নববর্ষ উপলক্ষে হংকং–ঝুহাই–ম্যাকাও সেতু ও অন্যান্য এক্সপ্রেসওয়ের টোল মওকুফ করে চীনের মূল ভূখণ্ড কর্তৃপক্ষ। এতে লিউয়ের মতো অনেক চালক এই সময় ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, গুয়াংঝু থেকে যাওয়া-আসায় প্রায় ৬০০ ইউয়ান টোল সাশ্রয় হয়েছে। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই আবার আসার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। ভবিষ্যতে চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং ক্যাম্পাস ও কেনেডি টাউন ঘুরে দেখার ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি।
পরিবার নিয়ে কেনাকাটা
গুয়াংঝুর আরেক বাসিন্দা ও অটোমোবাইল শিল্পে কর্মরত ইসন চং ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের সফরে হংকংয়ে এসে লুনার নববর্ষের উপহার কেনেন। এটি ছিল এই কর্মসূচির আওতায় তার দ্বিতীয় সফর।
হংকং ডলারের তুলনায় রেনমিনবির শক্ত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে চার সদস্যের পরিবারসহ তিনি প্রায় ২০ হাজার ইউয়ান ব্যয় করেন কেনাকাটা, খাবার ও আবাসনে। ৩২ বছর বয়সী চং বলেন, বাস বা হাই-স্পিড ট্রেনের তুলনায় গাড়ি চালিয়ে আসা অনেক বেশি সুবিধাজনক, কারণ কেনাকাটার ব্যাগ বহন করতে হয় না।
যদিও বুকিং প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল এবং কয়েক দিন আগে পরিকল্পনা করতে হয়, তবুও হংকংয়ে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতাকে তিনি আনন্দদায়ক বলেছেন। তার মতে, চালকেরা নিয়ম মেনে চলে, পথচারীরা সিগন্যাল ভাঙে না এবং ইলেকট্রিক বাইকের ঝুঁকিও নেই। পার্কিং খুঁজে পাওয়াও সহজ বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতের ছুটিতেও আবার হংকংয়ে গাড়ি চালিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
কর্মসূচির অগ্রগতি
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চালু হওয়া “সাউথবাউন্ড ট্রাভেল ফর গুয়াংডং ভেহিকলস (এন্ট্রি ইনটু আরবান এরিয়া)” কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ব্যক্তিগত গাড়ি সরাসরি মেগা সেতু ব্যবহার করে হংকংয়ে প্রবেশ করতে পারে। এই ব্যবস্থায় চালকেরা সর্বোচ্চ তিন দিন অবস্থান করতে পারেন এবং প্রতিদিন ১০০টি গাড়ির কোটা রয়েছে।
পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ছুটির প্রথম কয়েক দিনে প্রায় ৫০০ গুয়াংডং গাড়ি নগর এলাকায় ঢুকবে বলে তারা আশা করেছিল, যার প্রায় অর্ধেক এক থেকে দুই দিন হংকংয়ে অবস্থান করছে। নববর্ষে এই কর্মসূচির বুকিং পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি আবেদনকারী নগর এলাকায় প্রবেশের যোগ্যতা পেয়েছেন এবং কর্মসূচি চালুর পর থেকে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি গাড়ি ইতিমধ্যে হংকং সফর করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















