সুন্দরবনের দুবলার চরে বনদস্যুদের নতুন করে সক্রিয়তার আশঙ্কায় সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী জেলে। সোমবার রাতে ২০ জেলে অপহরণের ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
মাছ ধরা বন্ধ, অনিশ্চয়তায় জেলেরা
বুধবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা সমুদ্রে ও নদীতে মাছ ধরা স্থগিত রেখেছেন। দুবলা জেলে গ্রুপের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ আলোরকোল থেকে ফোনে জানান, সুন্দরবন ও আশপাশের সাগর এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় জেলেরা অপহরণের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
তার ভাষ্য, ১০ হাজারের বেশি শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী জেলে বর্তমানে চরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুম শেষের পথে হওয়ায় অনেকেই খালি হাতে ঘরে ফেরার শঙ্কায় রয়েছেন।
চার দস্যু বাহিনীর তৎপরতার অভিযোগ
কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, বর্তমানে সুন্দরবন ও সংলগ্ন জলসীমায় জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি দস্যু দল সক্রিয়। তারা অবাধে চলাফেরা করে জেলেদের অপহরণ করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারে না, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
গত সপ্তাহে দস্যু হামলায় আহত অন্তত চার জেলেকে রামপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ২০১৮ সালে সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করলেও অন্তর্বর্তী সময়ে আবার দস্যুতা মাথাচাড়া দিয়েছে বলে তার অভিযোগ।
‘পানিতে কুমির, ডাঙায় বাঘ—এখন সাগরে দস্যু’
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, দস্যু তৎপরতায় এখন মাছ ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে বলা হতো, পানিতে কুমির আর ডাঙায় বাঘ—এখন বলতে হচ্ছে সাগরেও দস্যু আছে।
তার দাবি, বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কবলে রয়েছে এবং গত ১৫ দিনে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি, যদিও দস্যুরা যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে।
রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা বন বিভাগের
মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনরেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, এভাবে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে রাজস্বে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা বনরেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, দস্যু আতঙ্কে কোনো জেলে এখন পারমিট নিতে আসছেন না, ফলে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত
শরণখোলা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদার জানান, জেলেরা বনে না যাওয়ায় তাদের ব্যবসাও মন্দা হয়ে গেছে।
নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীরা কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















