ঢাকায় রমজানের প্রথম দিনেই খেজুরের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এবং শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত থাকলেও দাম বৃদ্ধির এ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
পশ্চিম এশিয়ার খেজুরের মধ্যে জনপ্রিয় জাহিদি খেজুর বৃহস্পতিবার ঢাকায় কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এটি এই সপ্তাহের শুরুতে ২৮০–৩০০ টাকার তুলনায় প্রায় ৫০ টাকা বেশি। গত বছরের রমজানের প্রথম দিনের তুলনায় এই খেজুরের দাম প্রায় ১০০ টাকা বেশি।
সস্তা ও ঢেউ খেলানো বা ‘বস্তা’ খেজুরের দামও কেজি প্রতি ২৫০–২৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রিমিয়াম খেজুরের দামে আরও উত্থান হয়েছে। ‘আজওয়া’ খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত, মিডজুল খেজুরের দাম পৌঁছেছে ১,৬৫০–১,৮০০ টাকা। মধ্যম মানের খেজুর যেমন মাবরুম এবং কালমি মারিয়াম বিক্রি হচ্ছে ৮৫০–৯৫০ টাকায়।
এমন দাম বৃদ্ধির পরেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল রমজানের সময় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক খেজুরের চাহিদা প্রায় ৯০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টন। এর মধ্যে রমজানেই প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টন চাহিদা পড়ে। বর্তমানে মজুদ প্রায় চাহিদার ২৫ শতাংশ বেশি, যা সরবরাহ সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখাচ্ছে না।
কিছু ব্যবসায়ী দাম বৃদ্ধির জন্য বাজারের কালোবাজারি ও গুজবকেই দায়ী করছেন। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের কাছে ১৫০ কন্টেইনার খেজুর ডুবে যাওয়ার গুজব ছড়িয়েছে। তবে ঢাকা হোলসেল মার্কেটে পাইকারি দামে কোনো বৃদ্ধি হয়নি বলে জানান অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা। বাদামটলি বাজারের ২৭ বছর অভিজ্ঞ ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম ফোনে জানান, “পাইকারি দামে কোনো বৃদ্ধি হয়নি।”
ভোক্তারা হঠাৎ দামের উত্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মতিঝিল এলাকার ক্রেতা মোহাম্মদ আজিজুল জানান, গত সপ্তাহে ২৮০ টাকায় যে জাহিদি খেজুর কিনেছিলেন, বৃহস্পতিবার সেটি কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “দাম যদি এত দ্রুত ওঠে, আমাদের অনেককে খেজুর কেনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।”
তবে বিক্রেতারা জানান, ঢাকার বাজারে সরবরাহ যথেষ্ট আছে। প্রথম রমজানের দিন ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়ে গেলেও বাজারে খেজুরের অভাব নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















