কেরালার জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র মুন্নারে আবারও আলোচনায় বন্য হাতি পদায়াপ্পা। চা-বাগান ঘুরে বেড়ানো কিংবা সড়কের ধারের দোকানে হঠাৎ হাজির হওয়া—সব মিলিয়ে বহুদিন ধরেই সে এই অঞ্চলের পরিচিত মুখ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার আক্রমণাত্মক আচরণে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যানবাহন
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই মুন্নার–মারায়ুর আন্তঃরাজ্য সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন পথে কয়েকটি যানবাহনে হামলা চালিয়েছে পদায়াপ্পা। এখন পর্যন্ত অন্তত চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কেউ কেউ হাতিটিকে ‘সংঘাতপ্রবণ প্রাণী’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি তুললেও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও বাগানশ্রমিক এখনো প্রাণীটির প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করছেন।
মৌসুমি ‘মাস্ত’ সময়েই বাড়ে আগ্রাসন
মুন্নার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সোসাইটির সভাপতি আর. মোহন জানান, বহু বছর ধরেই তারা পদায়াপ্পার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর ভাষ্য, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে হাতিটির মাস্ত সময়ে স্বাভাবিকভাবেই আচরণ কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এই সময় পার হয়ে গেলে সে আবার শান্ত স্বভাবে ফিরে আসে এবং মুন্নার এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করে। তাঁর আশঙ্কা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু মহল চাপ সৃষ্টি করলে সরকার হাতিটিকে সরিয়ে নিতে পারে।
পর্যটনের প্রতীক হয়ে উঠেছে পদায়াপ্পা
স্থানীয়দের মতে, পদায়াপ্পা এখন মুন্নারের এক ধরনের প্রতীক। পাহাড়ি শহরে আসা বহু পর্যটকই এই হাতিটিকে এক নজর দেখার আশা নিয়ে আসেন। বাগানশ্রমিকসহ অনেক বাসিন্দা চান, প্রাণীটি যেন তার স্বাভাবিক আবাসেই থাকতে পারে। শান্ত স্বভাবের জন্যই মানুষের সঙ্গে তার এক ধরনের সহাবস্থান তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বন বিভাগের কড়া নজরদারি
মুন্নার বিভাগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের প্রধান জয়ন জে. জানান, বর্তমানে হাতিটি মুন্নার ও দেবিকুলাম বনাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করছে এবং তার গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাতিটি কখনো মানুষের ওপর হামলা চালায়নি; কেবল মাস্ত সময়ে সাময়িক আগ্রাসন দেখা যায়। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিচিতি ও স্বভাব
প্রায় ৬০ বছর বয়সী বলে ধারণা করা পদায়াপ্পাকে সহজেই চেনা যায় তার অস্বাভাবিক লম্বা দাঁত এবং পেছনের পায়ের আঘাতজনিত খুঁড়িয়ে হাঁটার কারণে। রাস্তার ধারে ‘বন্ধুসুলভ’ উপস্থিতি এবং দোকান থেকে খাবার নেওয়ার অভ্যাসের জন্যও সে বেশ পরিচিত, যদিও সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি করে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















