পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা।
হুমকির জেরে আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালাইয়া দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার প্রথমে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওই সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শুক্রবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিরা অভিযুক্তকে ঘিরে ধরলে তিনি পালিয়ে যান।

দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ
ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখেন। পরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
ব্যবসায়ীদের দাবি, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্যাদার ছেলে শান্ত প্যাদা ও তার সহযোগীরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল।
ব্যবসায়ীরা জানান, কালাইয়া ধানহাট সেতুর পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২টি দোকান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলার ও কার্গো জাহাজে রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথর আনা হয় সেখানে। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি নৌযান ভিড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি নৌযান থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো।

চাঁদা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর উত্তেজনা
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, বুধবার সন্ধ্যার জরুরি সভায় ব্যবসায়ীরা চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শান্ত প্যাদা পরদিন টাকা নিতে এসে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত সব সময় অস্ত্র বহন করে এবং তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
শান্ত প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বাবা সোহরাব হোসেন প্যাদা দাবি করেন, তিনি দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় একটি জলমহাল ইজারা নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার ছেলে প্রতি ট্রলার থেকে ২০০ টাকা নিয়েছে, যা চাঁদা নয়।
তবে উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।

পুলিশের অবস্থান
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর জানান, বিষয়টি সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















