মার্কিন অভিবাসন অভিযানের মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে এক মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নথিপত্রে উঠে এসেছে, টেক্সাসে সংঘটিত ওই ঘটনায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভূমিকা এখন তদন্তের মুখে, আর এ ঘটনাকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জোরালো হচ্ছে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল
নথি অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজকে গুলি করে হত্যা করে Department of Homeland Security–এর এজেন্টরা। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ, South Padre Island এলাকায় একটি দুর্ঘটনার পর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করার সময়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চলাকালে মার্টিনেজের গাড়ি এক কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ। এরপর আরেক কর্মকর্তা একাধিক গুলি ছোড়ে। আহত অবস্থায় তাকে কাছের শহর Brownsville–এর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রশাসনের দাবি বনাম পরিবারের অভিযোগ
Department of Homeland Security–এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্টিনেজ ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মকর্তাকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করেছিলেন, ফলে আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়।
তবে পরিবারের আইনজীবীরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের দাবি, মার্টিনেজ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ মানার চেষ্টা করছিলেন। তারা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেছেন, প্রায় এক বছর ধরে পরিবারটি সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে চাপ বাড়ছে
এই ঘটনা ঘটেছিল এমন সময়, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসন কঠোর অভিবাসন অভিযান জোরদার করছিল। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন অভিযানে বলপ্রয়োগের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, Immigration and Customs Enforcement–এর বলপ্রয়োগের ঘটনা কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান
ঘটনাটি বর্তমানে Texas Department of Public Safety–এর রেঞ্জার বিভাগ তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।
ক্রমবর্ধমান এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমত—দুই ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















