যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার থেকে দ্রুত গতিতে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন দেশটির বিনিয়োগকারীরা। বড় প্রযুক্তি কোম্পানির আয় কমে আসা এবং বিদেশি বাজারের ভালো পারফরম্যান্সের কারণে এই প্রবণতা ত্বরান্বিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত ছয় মাসে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা নিজেদের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। শুধু ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বেরিয়ে গেছে ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা অন্তত ২০১০ সালের পর বছরের প্রথম আট সপ্তাহে সর্বোচ্চ বহিঃপ্রবাহ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বিদেশমুখী বিনিয়োগের ঝোঁক
দীর্ঘ সময় ধরে শক্তিশালী অর্থনীতি, কর্পোরেট আয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতের আধিপত্যের কারণে ‘আমেরিকা কিনুন’ কৌশল বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় প্রযুক্তি শেয়ারের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন ইউরোপ, জাপান ও উদীয়মান বাজারগুলোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
একটি সাম্প্রতিক তহবিল ব্যবস্থাপক জরিপে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীরা পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার থেকে সরে উদীয়মান বাজারে ঝুঁকছেন।

কোথায় যাচ্ছে মার্কিন অর্থ
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উদীয়মান বাজারের শেয়ারে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ঢেলেছেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বড় গন্তব্য, এরপর রয়েছে ব্রাজিল।
গত এক বছরে পারফরম্যান্সের দিক থেকেও বিদেশি বাজার এগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক যেখানে প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে টোকিওর সূচক ডলারে ৪৩ শতাংশ, ইউরোপের সূচক ২৬ শতাংশ এবং সাংহাই ও সিউলের সূচকও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে।
প্রযুক্তি শেয়ার নিয়ে নতুন ভাবনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করছেন। অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা থেকে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও প্রতিরক্ষামূলক খাতের শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষ করে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের বাজারে এ ধরনের কোম্পানির উপস্থিতি বেশি হওয়ায় সেসব বাজারে আগ্রহ বাড়ছে।
মূল্যায়নের ব্যবধান বড় কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার এখনো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি দামী। প্রধান মার্কিন সূচক যেখানে ভবিষ্যৎ আয়ের প্রায় ২১ দশমিক ৮ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে, সেখানে ইউরোপে তা প্রায় ১৫ গুণ, জাপানে ১৭ গুণ এবং চীনে ১৩ দশমিক ৫ গুণ।
এই মূল্য ব্যবধান ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মিলিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেখছেন।
ডলারের দুর্বলতাও প্রভাব ফেলছে
গত বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বিদেশে বিনিয়োগ কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও ভালো পারফরম্যান্স করা বাজার থেকে ডলারে আয় বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















