ফ্রান্সের শহর লিওঁতে উগ্র ডানপন্থী তরুণ কর্মী কোয়েন্টিন ডেরাঙ্ক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে, যা ঘিরে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়।
হত্যাকাণ্ডে উত্তাল লিওঁ
গত সপ্তাহে ২৩ বছর বয়সী কোয়েন্টিন ডেরাঙ্ককে কথিত উগ্র বামপন্থী কর্মীরা মারধর করে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর শনিবার লিওঁ শহরে বড় সমাবেশ হয়। অনেক বিক্ষোভকারী মুখ ঢাকতে সার্জিক্যাল মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিছিল চলাকালে নাৎসি স্যালুট ও বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভিত্তিতে এসব ঘটনা প্রসিকিউটরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের শান্ত থাকার আহ্বান
সমাবেশের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সহিংস গোষ্ঠীগুলো নিয়ে আগামী সপ্তাহে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোমিনিক দ্য ভিলপ্যাঁ ডেরাঙ্ক হত্যাকে ফ্রান্সের জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তদন্তে সাতজন, রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
ডেরাঙ্ক হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক দলের এক আইনপ্রণেতার সাবেক সহযোগীও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দলটি ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো হত্যাকাণ্ডে উগ্র বামপন্থীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠল। একই সময়ে উগ্র ডানপন্থীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যার একটি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্তাধীন।

সহিংসতার শঙ্কায় কড়া নিরাপত্তা
লিওঁ শহরে উগ্র ডান ও অ্যান্টিফ্যাসিস্ট—উভয় গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় পুলিশ আগে থেকেই সহিংসতার আশঙ্কা করছিল। সন্ধ্যার মধ্যে মিছিল অনেকটাই ছত্রভঙ্গ হলেও পুরো রাতজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।
শহরের মেয়র গ্রেগরি দুসে শুরুতে এই সমাবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ফ্রান্স ও ইউরোপের বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী লিওঁতে জড়ো হতে পারে—এমন আহ্বান ছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, লিওঁর মিছিলে প্রায় তিন হাজার দুইশ মানুষ অংশ নেয়। ফ্রান্সের আরও কয়েকটি শহরেও ছোট আকারে বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















