যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে দেশটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা জোর দিচ্ছেন অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোযোগ বাড়ানোর ওপর। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জোরদার
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কেন যুক্তরাষ্ট্র এত বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এ বিষয়ে এখনো আমেরিকান জনগণের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কড়া বক্তব্য থাকলেও প্রশাসনের ভেতরে এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে একক সমর্থন তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধমুখী বার্তা ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর হতে পারে, কারণ অনেক ভোটারের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়।
নির্বাচনের আগে অর্থনীতি অগ্রাধিকার
হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও রিপাবলিকান প্রচার কর্মকর্তারা চাইছেন, ট্রাম্প যেন নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকেও এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রশাসনের আরেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি সরাসরি আমেরিকান জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনছে এবং তাঁর সব পদক্ষেপই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ।
দীর্ঘ সংঘাতের রাজনৈতিক ঝুঁকি
রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়ালে ট্রাম্প ও তাঁর দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনেক সমর্থকই বিদেশে দীর্ঘ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত মাসে ভেনেজুয়েলায় দ্রুত সামরিক অভিযানে কিছু সমর্থন মিললেও ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ফলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ইরানের প্রতি নতুন হুঁশিয়ারি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় না এলে হামলার হুমকি ট্রাম্প একাধিকবার দিয়েছেন। শুক্রবারও তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের উচিত ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানো।
অন্যদিকে ইরান আগেই জানিয়েছে, আবার হামলা হলে তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নতুন কোনো বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে আমেরিকানদের আগ্রহ সীমিত।

অস্পষ্ট যুদ্ধের কারণ নিয়ে প্রশ্ন
সম্ভাব্য হামলার পেছনে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন—কখনো বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের ভূমিকা, আবার কখনো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি। এমনকি শাসন পরিবর্তনের কথাও উঠেছে, যদিও বিমান হামলায় তা কীভাবে সম্ভব হবে—সে ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়।
এই অস্পষ্টতা অতীতের ইরাক যুদ্ধের আগে স্পষ্ট যুক্তি উপস্থাপনের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















