ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) সম্প্রতি গ্রেট নিকোবর দ্বীপের ‘সাম্প্রতিক উন্নয়ন প্রকল্প’কে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এটি এমন এক সংহত প্রকল্প যা প্রায় ৮০,০০০–৯০,০০০ কোটি টাকার ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের মূল অংশ
প্রকল্পটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এএনআইআইডিসিও) দ্বারা প্রস্তাবিত। এতে চারটি প্রধান অংশ রয়েছে—আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, ৪৫০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ও সোলার ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিস্তৃত শহর ও এলাকা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর জন্য প্রায় ১৩০.৭৫ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল ব্যবহার করতে হবে, যা দ্বীপটির মোট এলাকার প্রায় ১৮ শতাংশ। সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পর এটি ১.২৮ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
কৌশলগত গুরুত্ব
সরকারি দাবি, প্রকল্পটি দেশের প্রতিরক্ষা, কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। গ্রেট নিকোবর মালাক্কা সট্রেইটের মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক শিপিং লেনে স্থায়ী উপস্থিতি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা বৈদেশিক প্রতিপক্ষের প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে। বড় কনটেইনার হাব তৈরি করলে ভারত বৈশ্বিক সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সম্পূর্ণরূপে অংশ নিতে পারবে এবং বৈদেশিক বন্দরে পণ্য স্থানান্তরের খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে।
নিকোবরের পরিবেশ ও জীবনযাত্রা
দ্বীপটি একটি জীববৈচিত্র্য কেন্দ্র। প্রাথমিক জরিপে ২০,৬৬৮টি কোরাল কলোনি চিহ্নিত হয়েছে। প্রকল্পে ১৬,১৫০টি কলোনি স্থানান্তর করা হবে। Leatherback সি টার্টল, Nicobar Megapode এবং সল্টওয়াটার ক্রোকোডাইল দ্বীপের প্রধান বাসিন্দা। পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, গালাথিয়া বে অঞ্চলে নির্মাণ কাজ প্রাকৃতিক বাসস্থান ক্ষয় করবে এবং সিসমিক ঝুঁকিও অবমূল্যায়িত করা হচ্ছে।
স্থানীয় উপজাতি ও অধিকার
শমপেন এবং নিকোবারি উপজাতির অধিবাসীরা প্রকল্পের অঞ্চলে বসবাস করছেন। এনজিটি জানিয়েছে, উপজাতির অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কোনো বাস্তবায়ন তাদের জায়গা থেকে স্থানান্তর করবে না। এএনআইআইডিসিওকে উপজাতি কল্যাণ বিভাগকে তহবিল প্রদান করতে হবে।
এনজিটির সিদ্ধান্ত
এনজিটি প্রকল্পের পরিবেশগত অনুমোদন মেনে নিয়েছে এবং ‘সুষম দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করেছে। এক মৌসুমের তথ্য যথেষ্ট মনে করা হয়েছে এবং কোরাল কলোনির স্থানান্তর কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আর কোন অংশ ICRZIA নিষিদ্ধ অঞ্চলের মধ্যে নেই।
এবার এএনআইআইডিসিও প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোতে পারবে এবং পোর্ট উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















