বয়স্কদের মধ্যে ডিমেনশিয়া আজ বিশ্বজুড়ে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শিংলসের টিকা গ্রহণ করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গবেষণায় কী মিলেছে
বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, শিংলস টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়া বা হালকা জ্ঞানীয় অবনতির হার কম। গবেষণার প্রধান গবেষক পাসকাল গেল্ডসেটজারের মতে, সাত বছরের মধ্যে নতুন ডিমেনশিয়া শনাক্তের প্রায় পাঁচটির একটি এই টিকার কারণে এড়ানো যেতে পারে। অর্থাৎ ঝুঁকি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েলস এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চার অঞ্চলের ফলাফলই একই প্রবণতা দেখিয়েছে।

শিংলস কী এবং টিকা কীভাবে কাজ করে
শিংলস হলো চিকেনপক্স ভাইরাস পুনরায় সক্রিয় হলে সৃষ্ট একটি যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগ। এই ভাইরাস শরীরে বহু বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত আধুনিক টিকায় ভাইরাসের জীবন্ত রূপ নয়, বরং এর পৃষ্ঠের প্রোটিনের অল্প অংশ ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে।
সাধারণত ৬৫ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেয় বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, যদিও অঞ্চলভেদে বয়সসীমা ভিন্ন হতে পারে।
শুধু ডিমেনশিয়া নয়, মিলেছে আরও উপকার
জানুয়ারিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সী ৩ হাজার ৮০০ মানুষের মধ্যে যারা আগে টিকা নিয়েছেন, তাদের শরীরে প্রদাহের মাত্রা কম এবং সুস্থ বার্ধক্যের সূচক তুলনামূলক ভালো।
গবেষকেরা সাতটি সূচকের ভিত্তিতে সুস্থ বার্ধক্যের স্কোর নির্ধারণ করেন, যার মধ্যে ছিল প্রদাহ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা। টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন।
কেন এমন প্রভাব পড়ে
ঠিক কী কারণে এই সুরক্ষা তৈরি হয়, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। একটি ব্যাখ্যা হলো, সুপ্ত চিকেনপক্স ভাইরাস দীর্ঘদিন শরীরে ক্ষতি করতে পারে, যা টিকা নেওয়ার পর কমে যায়। ভাইরাসজনিত প্রদাহ ডিমেনশিয়ার সূচনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, শিংলস টিকা সামগ্রিকভাবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যেমন শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে। যদি তা সত্য হয়, তাহলে অন্যান্য টিকাতেও একই ধরনের উপকার মিলতে পারে।
এখনও যেসব প্রশ্নের উত্তর বাকি
তরুণদের জন্য এই টিকা সুপারিশ করার আগে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। সুরক্ষা কতদিন স্থায়ী থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রভাব বাড়ে কি না—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। তরুণদের ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম মনে হলেও এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
গবেষকেরা শিগগিরই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানোর আশা করছেন, যাতে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















