বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে সেবার মান বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন বিধিমালার আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন বিধিমালার অধীনে উদ্যোগ
একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ‘ফরম-ক’ পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কাছে ৩১ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার শর্ত
আবেদনের সঙ্গে মূল ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার এবং বিধিমালায় উল্লেখিত সব সহায়ক নথি জমা দিতে হবে। নতুন এই প্রক্রিয়া কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৪৩ ধারার আওতায় চালু হয়েছে, যা পূর্বের ২০২০ সালের বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে সিএন্ডএফ এজেন্টদের জন্য আলাদা ও বিশেষায়িত বিধান ছিল না। নতুন নিয়মে লাইসেন্সিং পদ্ধতি আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার করা হয়েছে।

যোগ্যতার মানদণ্ড
আবেদনকারীর স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানার কোম্পানিও আবেদন করতে পারবে, তবে বিদেশি মালিকানা মোট শেয়ারের ৪৯ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
একই ব্যক্তি মালিক, অংশীদার বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একাধিক লাইসেন্স নিতে পারবেন না। আবেদনপত্রে কেবল একটি কাস্টমস স্টেশনের নাম উল্লেখ করতে হবে; একাধিক স্টেশনের নাম থাকলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ, শিক্ষাগত সনদ এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন সনদ, কোম্পানি গঠনের কাগজপত্র, অংশীদারি চুক্তি এবং অফিসের মালিকানা বা ভাড়ার প্রমাণপত্রও দিতে হবে।
এ ছাড়া আবেদন ফি হিসেবে চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালকের অনুকূলে ৫ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর নামে আগে কোনো লাইসেন্স ইস্যু হয়নি—এ মর্মে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ঘোষণাও যুক্ত করতে হবে।

পরীক্ষা ও লাইসেন্স প্রদান
প্রাথমিক যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থীরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি পরিচালনা করবে। যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা, পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফল একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
যোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স ইস্যু করবে।
সতর্কবার্তা এনবিআরের
নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে বা সময়সীমার পর জমা পড়া আবেদন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। প্রয়োজনে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের অধিকারও সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় কাস্টমস ব্রোকারেজ সেবার পেশাগত মান বাড়বে এবং দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















