ইলিনয়সের গভর্নর জে.বি. প্রিটজকার ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরতের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক কার্যক্রমকে বেআইনি ঘোষণা করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই চিঠিতে প্রিটজকার লিখেছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি কৃষকদের বড় ক্ষতি করেছে, মিত্র দেশগুলোর ক্ষোভ তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষের বাজারের দামের ওপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইলিনয়সের প্রত্যেক পরিবারের জন্য প্রায় ১,৭০০ ডলার ফেরতের দাবি করা হয়েছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন, ২০২৫ সালে গড় মার্কিন পরিবার এই পরিমাণ শুল্ক বহন করেছে। প্রিটজকার সতর্ক করেছেন, যদি সরকারের পক্ষ থেকে সময়মতো ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হয়, তবে তারা আরও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমও বলেন, এই টাকা সাধারণ মানুষদের থেকে নেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে হিসাব চুকানোর। এই শুল্ক নীতি ছিল শুধু বেআইনি অর্থ আদায়ের উপায়, যা দাম বাড়িয়েছে, পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করেছে।”
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি ঘোষণা করা হয়। এই নীতির ফলে আমদানিকারকরা ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক পরিশোধ করেছেন, যার অনেকটা অতিরিক্ত খরচ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়েছে। তবে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলছেন, যে সাধারণ মানুষ সরাসরি এই অর্থ ফেরত পাবে, তা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে।

সুপ্রীম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প-নির্ধারিত সংরক্ষিত বিচারক ব্রেট কাভানওaugh মন্তব্য করেছেন, রায়ে স্পষ্ট করা হয়নি সরকার কীভাবে আমদানিকারক থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেবে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এই শুল্ক নীতিকে বেআইনি কর হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তবে তিনি সরাসরি ফেরতের দাবি জানাননি।
বর্তমানে ট্রাম্প শুল্ক নীতি বজায় রাখতে এবং নতুন শুল্ক আরোপের জন্য সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১ নীতির অধীনে বিভিন্ন তদন্ত চালাচ্ছেন। সেকশন ২৩২ অনুসারে কোনও আমদানি যদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তখন শুল্ক আরোপ করা যায়। সেকশন ৩০১ অনুসারে কোনও দেশ যদি অন্যায় বা অসম বাণিজ্য নীতি অবলম্বন করে, তখন শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকে। এই নীতি এবং পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















