০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

কিউবাকে জ্বালানির শ্বাসরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ, মানবিক সংকটের আশঙ্কা

ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারি ও তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনায় জ্বালানিশূন্যতার মুখে পড়েছে কিউবা। ক্রমশ কমে আসা তেল সরবরাহ দেশটিকে সম্ভাব্য মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন চাপ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার সঙ্গে যুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেলসমৃদ্ধ মিত্র দেশগুলো সরবরাহ বন্ধ করেছে বা সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও উপকূলরক্ষী বাহিনী একাধিক জাহাজকে থামিয়ে দিয়েছে বা পথরোধ করেছে। ফলে দ্বীপ দেশটিতে জ্বালানি প্রবাহ প্রায় বন্ধের মুখে।

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ শব্দটি ব্যবহার না করলেও কার্যত পরিস্থিতি অবরোধের মতোই কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

Large piles of garbage, including cardboard and plastic waste, fill a city street. A person wearing a striped shirt stands amid the trash. A wall with graffiti and red text is visible in the background.

ট্রাম্পের নির্দেশে বাড়তি চাপ

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এতে মেক্সিকোর মতো দেশও পিছু হটেছে। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় সাগরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জাহাজ চলাচলে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো মিলিয়ে কিউবার জ্বালানি আমদানি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

‘ওশান মেরিনার’কে ঘিরে নাটকীয় ঘটনা

কলম্বিয়া থেকে জ্বালানি বোঝাই করে আসা ওশান মেরিনার নামের একটি ট্যাঙ্কার কিউবার দিকে অগ্রসর হলেও দ্বীপ থেকে অল্প দূরে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। পরে মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটির পাশে অবস্থান নেয় এবং সেটিকে ডোমিনিকান জলসীমার দিকে সরিয়ে দেয়। কয়েক দিন পর আবার জাহাজটিকে বাহামার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কিউবার জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভেতরে বাড়ছে সংকট

জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে কিউবার জনজীবনে স্পষ্ট। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসের সংকট, পানি পাম্প চালাতে ডিজেলের অভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। শহরে ময়লা জমছে, খাদ্যের দাম বাড়ছে, স্কুলে ক্লাস বাতিল হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলো অস্ত্রোপচার স্থগিত করছে।

জাতিসংঘ এই নীতির সমালোচনা করে বলেছে, এতে প্রায় এক কোটি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন উঠছে।

দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে মজুত

জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ কিউবার জ্বালানি মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এক সময়ের প্রধান সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। রাশিয়া তেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো জাহাজ দেখা যায়নি। ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা ও আলজেরিয়ার মতো দেশও দূরে থাকছে।

Satellite view of an industrial waterfront in Jamaica, showing fuel storage tanks, warehouses, and port facilities along the shoreline. A red tanker ship is positioned offshore in deep blue water, with roads and industrial buildings visible inland.

বিকল্প খুঁজেও ব্যর্থ কিউবা

গ্যাস এক্সেলেরো নামের একটি ট্যাঙ্কার কিউবা থেকে কুরাসাও গিয়ে প্রায় খালি হাতেই ফিরে আসে। পরে জাহাজটি জ্যামাইকার কিংস্টন বন্দরের কাছে নোঙর করে থাকলেও সেখানে জ্বালানি তোলার প্রমাণ মেলেনি। জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, অন্তত এক দশক ধরে তারা কিউবাকে জ্বালানি বিক্রি করেনি।

সব মিলিয়ে কিউবার সামনে জ্বালানি সরবরাহের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

কিউবাকে জ্বালানির শ্বাসরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ, মানবিক সংকটের আশঙ্কা

০৩:২৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারি ও তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনায় জ্বালানিশূন্যতার মুখে পড়েছে কিউবা। ক্রমশ কমে আসা তেল সরবরাহ দেশটিকে সম্ভাব্য মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন চাপ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার সঙ্গে যুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেলসমৃদ্ধ মিত্র দেশগুলো সরবরাহ বন্ধ করেছে বা সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও উপকূলরক্ষী বাহিনী একাধিক জাহাজকে থামিয়ে দিয়েছে বা পথরোধ করেছে। ফলে দ্বীপ দেশটিতে জ্বালানি প্রবাহ প্রায় বন্ধের মুখে।

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ শব্দটি ব্যবহার না করলেও কার্যত পরিস্থিতি অবরোধের মতোই কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

Large piles of garbage, including cardboard and plastic waste, fill a city street. A person wearing a striped shirt stands amid the trash. A wall with graffiti and red text is visible in the background.

ট্রাম্পের নির্দেশে বাড়তি চাপ

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এতে মেক্সিকোর মতো দেশও পিছু হটেছে। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় সাগরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জাহাজ চলাচলে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো মিলিয়ে কিউবার জ্বালানি আমদানি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

‘ওশান মেরিনার’কে ঘিরে নাটকীয় ঘটনা

কলম্বিয়া থেকে জ্বালানি বোঝাই করে আসা ওশান মেরিনার নামের একটি ট্যাঙ্কার কিউবার দিকে অগ্রসর হলেও দ্বীপ থেকে অল্প দূরে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। পরে মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটির পাশে অবস্থান নেয় এবং সেটিকে ডোমিনিকান জলসীমার দিকে সরিয়ে দেয়। কয়েক দিন পর আবার জাহাজটিকে বাহামার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কিউবার জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভেতরে বাড়ছে সংকট

জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে কিউবার জনজীবনে স্পষ্ট। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসের সংকট, পানি পাম্প চালাতে ডিজেলের অভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। শহরে ময়লা জমছে, খাদ্যের দাম বাড়ছে, স্কুলে ক্লাস বাতিল হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলো অস্ত্রোপচার স্থগিত করছে।

জাতিসংঘ এই নীতির সমালোচনা করে বলেছে, এতে প্রায় এক কোটি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন উঠছে।

দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে মজুত

জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ কিউবার জ্বালানি মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এক সময়ের প্রধান সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। রাশিয়া তেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো জাহাজ দেখা যায়নি। ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা ও আলজেরিয়ার মতো দেশও দূরে থাকছে।

Satellite view of an industrial waterfront in Jamaica, showing fuel storage tanks, warehouses, and port facilities along the shoreline. A red tanker ship is positioned offshore in deep blue water, with roads and industrial buildings visible inland.

বিকল্প খুঁজেও ব্যর্থ কিউবা

গ্যাস এক্সেলেরো নামের একটি ট্যাঙ্কার কিউবা থেকে কুরাসাও গিয়ে প্রায় খালি হাতেই ফিরে আসে। পরে জাহাজটি জ্যামাইকার কিংস্টন বন্দরের কাছে নোঙর করে থাকলেও সেখানে জ্বালানি তোলার প্রমাণ মেলেনি। জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, অন্তত এক দশক ধরে তারা কিউবাকে জ্বালানি বিক্রি করেনি।

সব মিলিয়ে কিউবার সামনে জ্বালানি সরবরাহের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।