ইউক্রেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান পেতে হলে এর “মূল কারণ” দূর করতেই হবে—এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের পেছনে যে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটি উপেক্ষা করায় পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষার অভিযোগ
জাখারোভা দাবি করেন, ২০২২ সালে মস্কোর সামরিক পদক্ষেপ ছিল জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় নেওয়া “বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ”। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ স্বীকার করেনি। বিশেষ করে ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার প্রস্তাব এবং ভ্লাদিমির জেলেনস্কির ২০২২ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইউক্রেন রাষ্ট্র কাঠামো ভাঙার অভিযোগ
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ইউক্রেন নিজেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ভিত্তি দুর্বল করেছে। জাখারোভা বলেন, নিরপেক্ষতা, জোটনিরপেক্ষতা ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অবস্থান—এই তিন ভিত্তির ওপরই নব্বইয়ের দশকে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। তার অভিযোগ, কিয়েভ সেই ভিত্তিগুলো ভেঙে দিয়েছে।

দোনবাস সংঘাতের প্রসঙ্গ
রাশিয়ার দাবি, ২০১৪ সালের ময়দান ঘটনার পর দোনবাস অঞ্চলে আট বছরের সংঘাতে বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহল যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়নি। মস্কোর মতে, এই প্রেক্ষাপটই বর্তমান সংঘাতের পটভূমি তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা
সাম্প্রতিক সময়ে জেনেভা, সুইজারল্যান্ড এবং আবু ধাবিতে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে ভূখণ্ড প্রশ্ন—বিশেষ করে দোনবাস ইস্যু—এখনও শান্তির প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিতর্কিত অঞ্চলগুলো
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিমিয়া, যা ২০১৪ সালে গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় বলে মস্কোর দাবি। একইভাবে ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিক নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পরে জাপোরোজিয়ে অঞ্চল ও খেরসন অঞ্চলসহ এসব এলাকা গণভোটের পর রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে মস্কো জানায়।
জাখারোভা জোর দিয়ে বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি সম্ভব কেবল তখনই, যখন সংঘাতের মূল কারণগুলো সম্পূর্ণভাবে দূর করা হবে।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















