১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
আদানি ও ভাতিজার বিরুদ্ধে মার্কিন জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তি, জরিমানা ১৮ মিলিয়ন ডলার ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে আবারও রক্তপাত, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও থামছে না হামলা মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ভারতীয় হিপহপে ঝড় তুলছেন রেবল ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বাড়তে পারে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা হিজাব নিয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বৈষম্যবিরোধী লড়াইয়ে হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করছে না ইরান, আলোচনায় শর্ত দিল তেহরান রাউল কাস্ত্রোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে কিউবায় নতুন উত্তেজনা ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতির মামলায় আতঙ্ক, মেধাবীরা সরকারি দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী কেরানীগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, ছিল না কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢাকার বাতাস আজও ‘মাঝারি’, দূষণের তালিকায় ৩১তম অবস্থানে রাজধানী

ভারতে মোদীর দাওয়াই কি কাজে আসবে?

নরেন্দ্র মোদী বর্তমান অবস্থাকে কোভিড পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন৷ জ্বালানি তেলের সংকটের গভীরতা বোঝাতে কেন্দ্র জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম বাড়া সত্ত্বেও ভারতে মূল্যবৃদ্ধি হয়নি৷

যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সংযমের একগুচ্ছ দাওয়াই দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এতে কি সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে?

পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তার নিশ্চয়তা নেই৷ এরই মধ্যে গত চার দিনে দুবার প্রধানমন্ত্রী আসন্ন কঠিন সময়ের কথা ভেবে সতর্কবার্তা দিয়েছেন৷

মোদীর দাওয়াই 

গত রবিবার হায়দরাবাদের সভা থেকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে আগামী দিনের অনিবার্য পরিস্থিতির জন্য ভারত তৈরি থাকতে পারে৷

ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহণের উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি সাধারণ মানুষকে মেট্রো, বাস বা লোকাল ট্রেন ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন৷ এর ফলে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি কমবে৷ বড় ব্যবসায়ীদের প্রতি তার বার্তা, তারা যেন ট্রাক বা সড়কপথের উপরে নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য রেলপথ বেশি ব্যবহার করেন৷

ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৫৯ শতাংশই খরচ হয় পরিবহণ ক্ষেত্রে৷ প্রধানমন্ত্রী কর্মস্থলে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন৷ পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে তিনি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলেছেন৷

প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানির জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ভারতকে খরচ করতে হয়৷ তাই ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতে বলেছেন মোদী৷

বিলাসদ্রব্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি বলে মত তার৷ দামি স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বা অতিরিক্ত সোনা কেনা থেকে সাধারণ মানুষ বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন৷ বিদেশ ভ্রমণের উপরেও রাশ টানতে বলেছেন তিনি৷

কেন আহ্বান মোদীর

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে৷ তেলের দাম আরো বাড়লে দেশে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছতে পারে৷ সেই বিপর্যয় এড়াতেই দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন মোদী৷

রবিবার এই পরামর্শ দেয়ার পরে ফের মঙ্গলবার এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বর্তমান অবস্থাকে কোভিড পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন৷ জ্বালানি তেলের সংকটের গভীরতা বোঝাতে কেন্দ্র জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম বাড়া সত্ত্বেও ভারতে মূল্যবৃদ্ধি হয়নি৷ এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির আয় দৈনিক এক হাজার কোটি টাকা কমে গিয়েছে৷ বাড়ছে লোকসানের বোঝা৷

পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন থাকায় নয়াদিল্লি দাম বাড়ায়নি, এমন যুক্তি সামনে আসছে৷ যদিও এই যুক্তি খারিজ করেছে কেন্দ্র৷ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মঙ্গলবার বণিকসভার অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘গত চার বছরে অর্থাৎ ২০২২ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি৷ এই সময়ে কতগুলো নির্বাচন হয়েছে? তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক নেই৷”

সময় নিয়ে প্রশ্ন

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটা বেড়েছে৷ গত বছর ব্যারেল প্রতি দাম ছিল গড়ে ৭০ ডলার৷ এপ্রিলে সেটা পৌঁছেছে ১১৩ ডলারে৷ এই পরিস্থিতিতে দাম না বাড়ালে তেল সংস্থাগুলির লোকসানের অঙ্ক ১ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা৷

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শুধু ভারত নয়, সারা পৃথিবী এখন একটা সংকটের মধ্যে রয়েছে৷ এই ধরনের সাবধানতা এশিয়ার কয়েকটি দেশে অবলম্বন করা হয়েছে৷ কম তেলের ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের উপরে জোর দেয়া হচ্ছে৷ প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে সাবধান হতে বলেন, সেটার মধ্যে অযৌক্তিক কিছু আমি দেখি না৷”

তবে সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিরূপ৷ বলেন, ‘‘যেটা একটু চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের সময়টা৷ এই সংকট তো বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল, তখন যেহেতু ভোট চলছিল চার-পাঁচটা রাজ্যে, তখন এ সব কথা শোনা যায়নি৷ যেই ভোট শেষ হল, অমনি সংযমের বার্তা দেয়া হল৷ অর্থনৈতিক ভাবে যেটা বাধ্যবাধকতা, তার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে ফেলা উচিত নয়৷ কথাগুলো বলা উচিত ছিল, আগেই বলতে পারতেন৷”

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্যে৷ প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক কমানো হয়েছে৷ তার কনভয়ে ক্রমশ বাড়ানো হবে বৈদ্যুতিন গাড়ির সংখ্যা৷

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার সচিবালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যথাসম্ভব গাড়ি কম ব্যবহার করার জন্য৷ নিজের কনভয়ে গাড়ি কমানোর কথা বলেছেন তিনি৷ একইভাবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বলা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস, ট্রেনে সফর করতে৷

এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিরূপ বলেন, ‘‘করোনার সময়ে আমরা নতুন নতুন কিছু জিনিস শিখেছিলাম৷ যেমন, আমরা বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোতাম না, অনলাইনে কাজ করতাম৷ এগুলো করলে তো ভালোই হয়৷ এতে অফিস যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবহার কমে, জ্বালানির সাশ্রয় হয়৷ এর ফলে পরিবেশ দূষণও কম হবে৷ কোভিডের সময়ে আমরা কিছু কিছু জিনিস আয়ত্ত করেছিলাম, সেগুলো এখনো মেনে চললে সমস্যা কিছু দেখি না৷”

আবেদন না নীতি

সরকারি স্তরে শুধু অনুরোধ বা আবেদনের উপরে নির্ভর করলে হবে না বলে অনেক বিশেষজ্ঞের মত৷ তারা নীতি প্রণয়নের পক্ষপাতী৷

অর্থনীতিবিদ শুভনীল চৌধুরী ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘সরকারকে আগে নীতি ঠিক করতে হবে৷ গয়না কেনা বন্ধ করতে বললেই হবে না৷ অলংকার শিল্পের উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল, সেটাও মাথায় রাখতে হবে৷ বিদেশ ভ্রমণ কি বন্ধ হয়ে যাবে? এতদিন তো বলা হচ্ছিল, সব ঠিকঠাক চলছে৷ কোনো সমস্যা নেই৷ প্রধানমন্ত্রীর কথায় প্রমাণ হচ্ছে, সব ঠিকঠাক চলছে না৷ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছে৷ তার আগেও টেনশন ছিল৷ যখন বাকিরা বলার চেষ্টা করেছেন যে সমস্যা রয়েছে, তখন সরকারের টনক নড়েনি৷ অরবিন্দ সুব্রমনিয়ম, রঘুরাম রাজনের মতো অর্থনীতিবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন৷”

তিনি বলেন, ‘‘জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দেশে রাষ্ট্রপ্রধানরা নিয়মিত বলছিলেন কীভাবে সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে৷ কিন্তু আমরা এতদিন বলিনি৷ এখনো বলা হচ্ছে তেল ও গ্যাসের রিজার্ভ আছে৷ অর্থনীতির তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার সংকুচিত হচ্ছে৷ আমাদের এফডিআই আশানুরূপ নয়, এফআইআই টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর জন্য কেন্দ্র ও সব রাজ্যের মন্ত্রীরা গণপরিবহণে যাতায়াত করে নজির তৈরি করুন৷ আমাদের বাড়ির ছেলে বিদেশে পড়তে যাবে না, তা হলে মন্ত্রী বা ধনকুবের পরিবারের  ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বন্ধ হোক৷ এটা আবেদনের স্তরে না রেখে নীতি প্রণয়ন করতে হবে সরকারকে৷”

ডিডাব্লিউ ডটকম

জনপ্রিয় সংবাদ

আদানি ও ভাতিজার বিরুদ্ধে মার্কিন জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তি, জরিমানা ১৮ মিলিয়ন ডলার

ভারতে মোদীর দাওয়াই কি কাজে আসবে?

১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সংযমের একগুচ্ছ দাওয়াই দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এতে কি সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে?

পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তার নিশ্চয়তা নেই৷ এরই মধ্যে গত চার দিনে দুবার প্রধানমন্ত্রী আসন্ন কঠিন সময়ের কথা ভেবে সতর্কবার্তা দিয়েছেন৷

মোদীর দাওয়াই 

গত রবিবার হায়দরাবাদের সভা থেকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে আগামী দিনের অনিবার্য পরিস্থিতির জন্য ভারত তৈরি থাকতে পারে৷

ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহণের উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি সাধারণ মানুষকে মেট্রো, বাস বা লোকাল ট্রেন ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন৷ এর ফলে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি কমবে৷ বড় ব্যবসায়ীদের প্রতি তার বার্তা, তারা যেন ট্রাক বা সড়কপথের উপরে নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য রেলপথ বেশি ব্যবহার করেন৷

ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৫৯ শতাংশই খরচ হয় পরিবহণ ক্ষেত্রে৷ প্রধানমন্ত্রী কর্মস্থলে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন৷ পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে তিনি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলেছেন৷

প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানির জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ভারতকে খরচ করতে হয়৷ তাই ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতে বলেছেন মোদী৷

বিলাসদ্রব্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি বলে মত তার৷ দামি স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বা অতিরিক্ত সোনা কেনা থেকে সাধারণ মানুষ বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন৷ বিদেশ ভ্রমণের উপরেও রাশ টানতে বলেছেন তিনি৷

কেন আহ্বান মোদীর

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে৷ তেলের দাম আরো বাড়লে দেশে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছতে পারে৷ সেই বিপর্যয় এড়াতেই দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন মোদী৷

রবিবার এই পরামর্শ দেয়ার পরে ফের মঙ্গলবার এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বর্তমান অবস্থাকে কোভিড পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন৷ জ্বালানি তেলের সংকটের গভীরতা বোঝাতে কেন্দ্র জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম বাড়া সত্ত্বেও ভারতে মূল্যবৃদ্ধি হয়নি৷ এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির আয় দৈনিক এক হাজার কোটি টাকা কমে গিয়েছে৷ বাড়ছে লোকসানের বোঝা৷

পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন থাকায় নয়াদিল্লি দাম বাড়ায়নি, এমন যুক্তি সামনে আসছে৷ যদিও এই যুক্তি খারিজ করেছে কেন্দ্র৷ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী মঙ্গলবার বণিকসভার অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘গত চার বছরে অর্থাৎ ২০২২ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি৷ এই সময়ে কতগুলো নির্বাচন হয়েছে? তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক নেই৷”

সময় নিয়ে প্রশ্ন

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটা বেড়েছে৷ গত বছর ব্যারেল প্রতি দাম ছিল গড়ে ৭০ ডলার৷ এপ্রিলে সেটা পৌঁছেছে ১১৩ ডলারে৷ এই পরিস্থিতিতে দাম না বাড়ালে তেল সংস্থাগুলির লোকসানের অঙ্ক ১ লক্ষ কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা৷

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শুধু ভারত নয়, সারা পৃথিবী এখন একটা সংকটের মধ্যে রয়েছে৷ এই ধরনের সাবধানতা এশিয়ার কয়েকটি দেশে অবলম্বন করা হয়েছে৷ কম তেলের ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের উপরে জোর দেয়া হচ্ছে৷ প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে সাবধান হতে বলেন, সেটার মধ্যে অযৌক্তিক কিছু আমি দেখি না৷”

তবে সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিরূপ৷ বলেন, ‘‘যেটা একটু চোখে লাগে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের সময়টা৷ এই সংকট তো বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল, তখন যেহেতু ভোট চলছিল চার-পাঁচটা রাজ্যে, তখন এ সব কথা শোনা যায়নি৷ যেই ভোট শেষ হল, অমনি সংযমের বার্তা দেয়া হল৷ অর্থনৈতিক ভাবে যেটা বাধ্যবাধকতা, তার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে ফেলা উচিত নয়৷ কথাগুলো বলা উচিত ছিল, আগেই বলতে পারতেন৷”

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্যে৷ প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক কমানো হয়েছে৷ তার কনভয়ে ক্রমশ বাড়ানো হবে বৈদ্যুতিন গাড়ির সংখ্যা৷

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার সচিবালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যথাসম্ভব গাড়ি কম ব্যবহার করার জন্য৷ নিজের কনভয়ে গাড়ি কমানোর কথা বলেছেন তিনি৷ একইভাবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বলা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস, ট্রেনে সফর করতে৷

এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিরূপ বলেন, ‘‘করোনার সময়ে আমরা নতুন নতুন কিছু জিনিস শিখেছিলাম৷ যেমন, আমরা বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোতাম না, অনলাইনে কাজ করতাম৷ এগুলো করলে তো ভালোই হয়৷ এতে অফিস যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবহার কমে, জ্বালানির সাশ্রয় হয়৷ এর ফলে পরিবেশ দূষণও কম হবে৷ কোভিডের সময়ে আমরা কিছু কিছু জিনিস আয়ত্ত করেছিলাম, সেগুলো এখনো মেনে চললে সমস্যা কিছু দেখি না৷”

আবেদন না নীতি

সরকারি স্তরে শুধু অনুরোধ বা আবেদনের উপরে নির্ভর করলে হবে না বলে অনেক বিশেষজ্ঞের মত৷ তারা নীতি প্রণয়নের পক্ষপাতী৷

অর্থনীতিবিদ শুভনীল চৌধুরী ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘সরকারকে আগে নীতি ঠিক করতে হবে৷ গয়না কেনা বন্ধ করতে বললেই হবে না৷ অলংকার শিল্পের উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল, সেটাও মাথায় রাখতে হবে৷ বিদেশ ভ্রমণ কি বন্ধ হয়ে যাবে? এতদিন তো বলা হচ্ছিল, সব ঠিকঠাক চলছে৷ কোনো সমস্যা নেই৷ প্রধানমন্ত্রীর কথায় প্রমাণ হচ্ছে, সব ঠিকঠাক চলছে না৷ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছে৷ তার আগেও টেনশন ছিল৷ যখন বাকিরা বলার চেষ্টা করেছেন যে সমস্যা রয়েছে, তখন সরকারের টনক নড়েনি৷ অরবিন্দ সুব্রমনিয়ম, রঘুরাম রাজনের মতো অর্থনীতিবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন৷”

তিনি বলেন, ‘‘জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দেশে রাষ্ট্রপ্রধানরা নিয়মিত বলছিলেন কীভাবে সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে৷ কিন্তু আমরা এতদিন বলিনি৷ এখনো বলা হচ্ছে তেল ও গ্যাসের রিজার্ভ আছে৷ অর্থনীতির তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার সংকুচিত হচ্ছে৷ আমাদের এফডিআই আশানুরূপ নয়, এফআইআই টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর জন্য কেন্দ্র ও সব রাজ্যের মন্ত্রীরা গণপরিবহণে যাতায়াত করে নজির তৈরি করুন৷ আমাদের বাড়ির ছেলে বিদেশে পড়তে যাবে না, তা হলে মন্ত্রী বা ধনকুবের পরিবারের  ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বন্ধ হোক৷ এটা আবেদনের স্তরে না রেখে নীতি প্রণয়ন করতে হবে সরকারকে৷”

ডিডাব্লিউ ডটকম