১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
কারিনার মৃত্যু, গণভবন লুট ও ফেসবুক প্রতিক্রিয়া ইউক্রেনের ড্রোনের জেরে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ রিলায়েন্স-ডিজনির বিরুদ্ধে জি’র পাল্টা লড়াই, বলিউড সিনেমা সম্প্রচার নিয়ে নতুন আইনি সংঘাত মানসিক যন্ত্রণার অবসান চান কানাডার নারী, ‘নিরাপদ মৃত্যু’ নিয়ে নতুন বিতর্ক ইউরোভিশন ফাইনালে চমক, বিতর্ক আর উন্মাদনা: ভিয়েনায় জমে উঠেছে সংগীতের মহারণ মোদির কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক, সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ কমাতে বলছে ভারত সরকার আদানি ও ভাতিজার বিরুদ্ধে মার্কিন জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তি, জরিমানা ১৮ মিলিয়ন ডলার ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে আবারও রক্তপাত, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও থামছে না হামলা মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ভারতীয় হিপহপে ঝড় তুলছেন রেবল ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বাড়তে পারে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতির মামলায় আতঙ্ক, মেধাবীরা সরকারি দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী

ইন্দোনেশিয়ায় একের পর এক আলোচিত দুর্নীতির মামলা দেশটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিখাত এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা প্রযুক্তিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বিদেশফেরত পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সরকারি কাজে যোগ দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন মেধাবীরা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

প্রযুক্তিখাতের পরিচিত মুখ নাদিয়েমকে ঘিরে বিতর্ক

দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গোজেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাদিয়েম মাকারিমের বিরুদ্ধে মহামারির সময় ক্রোমবুক কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে। তবে নাদিয়েম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

Gojek founder Nadiem Makarim faces 18-year jail demand in Indonesia laptop  graft trial - The Business Times

এই মামলায় তার সঙ্গে অভিযুক্ত এক প্রযুক্তি নির্বাহীকে ইতোমধ্যে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন যা রাষ্ট্রীয় ক্ষতির কারণ হয়েছে। যদিও বিচারক স্বীকার করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি।

সরকারি সিদ্ধান্তই কি এখন ঝুঁকি?

ইন্দোনেশিয়ায় শুধু নাদিয়েম নন, আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান একই ধরনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী থমাস লেমবংকেও একটি পুরোনো আমদানি নীতির কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সমালোচকদের দাবি, একই ধরনের নীতি পরে আরও অনেকে অনুসরণ করলেও শুধু তাকেই টার্গেট করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ফেরি অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান ইরা পুসপাদেউইয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে। এক বিচারক সতর্ক করে বলেছেন, ভালো উদ্দেশ্যে নেওয়া ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকেও যদি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে দক্ষ পেশাজীবীরা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নিতে ভয় পাবেন।

বিদেশি বিনিয়োগে বাড়ছে শঙ্কা

Indonesia: Building The Future Of Southeast Asia | Global Finance Magazine

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এসব মামলা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভাবছে, আজ ভালো উদ্দেশ্যে করা কোনো চুক্তি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না।

ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। সরকার নতুন বিনিয়োগ তহবিল গঠন করে বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু আইনের নিশ্চয়তা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সেই প্রচেষ্টা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেধাপাচারের আশঙ্কা

সাবেক কূটনীতিক ডিনো প্যাটি জালালের ভাষায়, এখন অনেক মেধাবী মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—সরকারে যোগ দিয়ে পরে আইনি ঝুঁকিতে পড়ার মানে কী। বিদেশে থাকা ইন্দোনেশীয় পেশাজীবীরাও দেশে ফেরার আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি আগামী বছরগুলোতে বড় আকারে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন দক্ষ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনশক্তি। আর বর্তমান পরিস্থিতি সেই মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কারিনার মৃত্যু, গণভবন লুট ও ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতির মামলায় আতঙ্ক, মেধাবীরা সরকারি দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী

১১:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় একের পর এক আলোচিত দুর্নীতির মামলা দেশটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিখাত এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা প্রযুক্তিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বিদেশফেরত পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সরকারি কাজে যোগ দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন মেধাবীরা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

প্রযুক্তিখাতের পরিচিত মুখ নাদিয়েমকে ঘিরে বিতর্ক

দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গোজেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাদিয়েম মাকারিমের বিরুদ্ধে মহামারির সময় ক্রোমবুক কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে। তবে নাদিয়েম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

Gojek founder Nadiem Makarim faces 18-year jail demand in Indonesia laptop  graft trial - The Business Times

এই মামলায় তার সঙ্গে অভিযুক্ত এক প্রযুক্তি নির্বাহীকে ইতোমধ্যে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন যা রাষ্ট্রীয় ক্ষতির কারণ হয়েছে। যদিও বিচারক স্বীকার করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি।

সরকারি সিদ্ধান্তই কি এখন ঝুঁকি?

ইন্দোনেশিয়ায় শুধু নাদিয়েম নন, আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান একই ধরনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী থমাস লেমবংকেও একটি পুরোনো আমদানি নীতির কারণে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সমালোচকদের দাবি, একই ধরনের নীতি পরে আরও অনেকে অনুসরণ করলেও শুধু তাকেই টার্গেট করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ফেরি অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান ইরা পুসপাদেউইয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে। এক বিচারক সতর্ক করে বলেছেন, ভালো উদ্দেশ্যে নেওয়া ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকেও যদি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে দক্ষ পেশাজীবীরা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নিতে ভয় পাবেন।

বিদেশি বিনিয়োগে বাড়ছে শঙ্কা

Indonesia: Building The Future Of Southeast Asia | Global Finance Magazine

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এসব মামলা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভাবছে, আজ ভালো উদ্দেশ্যে করা কোনো চুক্তি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না।

ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম বিদেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। সরকার নতুন বিনিয়োগ তহবিল গঠন করে বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু আইনের নিশ্চয়তা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সেই প্রচেষ্টা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেধাপাচারের আশঙ্কা

সাবেক কূটনীতিক ডিনো প্যাটি জালালের ভাষায়, এখন অনেক মেধাবী মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—সরকারে যোগ দিয়ে পরে আইনি ঝুঁকিতে পড়ার মানে কী। বিদেশে থাকা ইন্দোনেশীয় পেশাজীবীরাও দেশে ফেরার আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি আগামী বছরগুলোতে বড় আকারে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন দক্ষ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনশক্তি। আর বর্তমান পরিস্থিতি সেই মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করছে।