একবার ভাবুন, মা-বাপ-মেয়ে জঙ্গীজেহাদিদের সাথে গণভবন লুটপাট করতে চলে গেছে। হয়ত শেখ হাসিনা তখন গণভবনে উপস্থিত থাকলে এরাই নৃশংসভাবে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতো।
উন্মত্ত জঙ্গী জনতার সাথে মিশে বাপ একটা কম্পিউটার লুট করলো, মা-মেয়ে লুট করলো শেখ হাসিনার ভ্যানিটি ব্যাগ,চিরুণী, চুলের ক্লিপসহ মহিলাদের ব্যবহার্য সামগ্রী।
এই লুটেরা বাপ এক সময়ের জাতীয় দলের ফুটবল খেলোয়াড় কায়সার হামিদ এবং মা ও মেয়ে কায়সার হামিদের স্ত্রী এবং কন্যা।
মহিলা দাবাড়ু রাণী হামিদ ও সামরিক বাহিনী থেকে জিয়াউর রহমান কর্তৃক বহিস্কৃত কর্ণেল হামিদের পরিবার হলো এই লুটেরা তথাকথিত জুলাই যোদ্ধারা। এদের গোটা পরিবারই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, ভারতবিরোধী এবং টাউট- বাটপার-ঠগবাজ।
এই পরিবারের মেয়েটি কারিনা কায়সার আজ ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। সারা জীবন ভারতের শ্রাদ্ধ ক’রে চিকিৎসা নিতে ভারতেই যেতে হলো এবং মরতেও হলো। এদের দ্বিচারিতার রকমফেরটা একবার চিন্তা করুণ।

তথাকথিত জুলাই যোদ্ধা ও গণভবন লুটের নেতৃত্ব দেওয়া এই মেয়েটি নাকি ইউটিউবার এবং অনলাইন ক্রিয়েটার ছিল। সেই পরিচয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে ব্যাপক অর্থ সাহায্যও নিয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গণভবনেও গিয়েছিল।
একবার চিন্তা করুণ, রুচিবোধের দৈন্যতা কী রকম হ’লে পুরো পরিবার এ রকম কাজে অংশ নিতে পারে ?
দেশে প্রতিদিন শিশু মরছে। সরকারী হিসেবেই এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিশু হামে মারা গেছে। আসলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নাকি হাজার ছাড়য়ে গেছে । এ নিয়ে মিডিয়াগুলোতে তেমন সংবাদ নেই। তেল নেই,খাদ্য নেই, প্রতিদিন মানুষ হত্যা হচ্ছে , লাশ ফ্লাই ওভারে ঝুলছে।
অথচ বদমাইশ-চোর-লুটেরা-বাটপার কায়সার হামিদের মেয়ে এই জুলাই সন্ত্রাসী, গণভবন লুটকারী কারিনা কায়সারের জন্য কিছু দালাল মিডিয়ায় শোকের ছায়া।
পক্ষান্তরে সোস্যাল মিডিয়াতে কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে ট্রলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে অপমানকর আর কী হ’তে পারে?
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মপক্ষ চলছে এখন। কবিগুরুই বলে গেছেন,

“যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে
পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
..যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!”
কারিনা কায়সার সব কিছুর উর্ধ্বে চলে গেছে কিন্তু তার বাপ -মা নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে শোকের বদলে পাচ্ছে লক্ষ-কোটি মানুষের ধিক্কার এবং ঘৃণা!
ইউনুসের লালবদরদের মৃত্যুর পরেও রেহাই নেই; জীবনে এবং মরণে দু’ক্ষেত্রেই জুটছে অপরিসীম ধিক্কার এবং জনরোষ। এতো কেবল শুরু; ’পিকচার আভি বাকি হ্যায়’।
ভজন সরকারের ফেসবুক থেকে নেওয়া।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















