ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া একটি দেওয়ানি জালিয়াতি মামলার নিষ্পত্তিতে মোট ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। এই সমঝোতার খবর প্রকাশের পর বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং আদানি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অভিযোগ তোলে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের সুবিধা পেতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সময় এসব তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল।
সমঝোতার পথে আদানি পরিবার
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা এখন আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এতে অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার—কোনোটিই করা হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জালিয়াতিবিরোধী ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন না করার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছিল, আদানি গ্রুপ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার এসেছিল মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। অভিযোগ ছিল, এই অর্থ সংগ্রহের সময় আদানি গ্রিন এনার্জির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে আদানি গ্রুপ
আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পুরো অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তদন্ত ও মামলাগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বের ধনীদের তালিকায় থাকা গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে। জ্বালানি, বিমানবন্দর, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত ব্যবসা রয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের।
ফৌজদারি মামলাও প্রত্যাহারের পথে?
এদিকে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেওয়ানি মামলার সমঝোতা এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের খবর আদানি গ্রুপের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















