ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন এবার পৌঁছে গেছে মহা ফাইনালের মঞ্চে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বসেছে এবারের আসর, যেখানে গান, নাচ, নাটকীয়তা আর বিতর্ক মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অন্যরকম এক পরিবেশ। ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও গ্রিসকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রতিযোগিতার নানা মুহূর্ত ইতোমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে।
গ্রিসের গায়ক আকিলাসের গল্প এখন ইউরোভিশনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কয়েক মাস আগেও এথেন্সের রাস্তায় গান গেয়ে জীবিকা চালাতেন তিনি। এখন তিনি দেশের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংগীত মঞ্চে। তার গান ‘ফের্তো’ গ্রিক লোকসংগীত, ইলেকট্রনিক সাউন্ড আর নাচের তালে তৈরি এক ব্যতিক্রমী পরিবেশনা। গানটিতে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সংকটের সময় পরিবারের সংগ্রামের গল্প।
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের স্বপ্ন
এবারের আসরে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী ডেল্টা গুডরেম। তার গান ‘ইক্লিপস’ ইতোমধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। শক্তিশালী কণ্ঠ আর নাটকীয় মঞ্চ পরিবেশনার কারণে তাকে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রাখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ইউরোপের বাইরের দেশ হয়েও গত কয়েক বছর ধরে ইউরোভিশনে অংশ নিচ্ছে, যা এখনও অনেকের কাছে বিস্ময়ের বিষয়।
ফিনল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশনা
ফিনল্যান্ড এবার প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেবারিট। গায়ক পিট পারকোনেন ও বেহালাবাদক লিন্ডা ল্যাম্পেনিয়াসের যুগল পরিবেশনা দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লিন্ডার হাতে থাকা বিরল ও দামী বেহালা। মঞ্চে আগুনের পাশে নাচতে নাচতে সেই বেহালা নিয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
ইসরায়েলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
ইসরায়েলের অংশগ্রহণ এবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। গাজা পরিস্থিতিকে ঘিরে কয়েকটি দেশ প্রতিযোগিতা বয়কট করেছে। সেমিফাইনালে ইসরায়েলি শিল্পী নোয়াম বেত্তানের পরিবেশনার সময় দর্শকদের একাংশ প্রতিবাদ জানায়। তবুও তার গানকে সম্ভাব্য জনপ্রিয় পরিবেশনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
নরওয়ের ‘অতিরিক্ত আবেদন’
নরওয়ের শিল্পী জোনাস লাভভের পরিবেশনা নিয়েও চলছে আলোচনা। মহড়ার সময় তার নাচ ও অঙ্গভঙ্গিকে অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় বলে মন্তব্য করেন আয়োজকরা। পরে তাকে পরিবেশনায় কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হয়। যদিও পরিবর্তনের পরও তার মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ছে।
ব্রিটেনের ভিন্নধর্মী চেষ্টা
গত কয়েক বছরে ব্যর্থতার পর এবার ব্রিটেন ভিন্ন পথে হাঁটছে। দেশটির প্রতিনিধি স্যাম ব্যাটল নিজ হাতে তৈরি সিনথেসাইজার ব্যবহার করে গান তৈরি করেছেন। অদ্ভুত আর ব্যতিক্রমী এই পরিবেশনা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ একে সাহসী উদ্যোগ বলছেন, আবার কেউ এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখছেন।

নতুন তারকাদের উত্থান
এবারের প্রতিযোগিতায় তরুণ শিল্পীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ফ্রান্সের মাত্র ১৭ বছর বয়সী গায়িকা মনরো তার অপেরা ঘরানার কণ্ঠ দিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছেন। ইউক্রেন, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার পরিবেশনাগুলোও আলাদা করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের দীর্ঘ উচ্চস্বর আর রোমানিয়ার বিতর্কিত গানের কথা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এবারের ইউরোভিশন শুধু সংগীত প্রতিযোগিতা নয়, বরং সংস্কৃতি, রাজনীতি, আবেগ আর ব্যক্তিগত সংগ্রামের এক বিশাল মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংগীত আসরের ট্রফি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















