ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ভারত। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার দেশবাসীকে সাশ্রয়ী জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ কমানো, সোনা কেনা সীমিত রাখা এবং জ্বালানি ব্যবহার কমানোর মতো বিষয়গুলোতে জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।
হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি প্রয়োজনে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শও দেন। অনেকেই এই আহ্বানকে করোনা মহামারির সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
ভারতের ওপর বাড়ছে জ্বালানি চাপ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। পাশাপাশি গ্যাসের ক্ষেত্রেও বড় অংশ আমদানিনির্ভর। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ভারতের আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়েছে।
এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। বিমান ভাড়া বেড়েছে, বিদেশ ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সোনা আমদানিও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছে দিল্লি। এজন্য সরকার সোনা ও রুপার আমদানি শুল্কও বাড়িয়েছে।
রুপির ওপর বাড়ছে চাপ
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ডলারের চাহিদা সামাল দেওয়া। বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি ধীর হয়ে পড়া এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখনই কোনো অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে না। দেশটির হাতে এখনও বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। অনেকের মতে, মোদির সরাসরি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান সেই আশঙ্কারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি
জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত বাজারে পড়ে। রান্নার গ্যাস, পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে চার বছর পর ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকার বাজারের ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক তেলবাজারের বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















