ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয় থেকে উঠে আসা তরুণ র্যাপার রেবল এখন ভারতীয় হিপহপ অঙ্গনের আলোচিত নাম। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, ভিন্নধর্মী উপস্থাপন আর আঞ্চলিক ভাষার সাহসী ব্যবহারে তিনি তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়।
শৈশবে নিজেকে অনেকটা বাইরের মানুষ মনে হতো রেবলের। সেই অনুভূতি থেকেই তৈরি হয়েছে তার গানের ভাষা। দূরত্ব, টিকে থাকা, পরিবর্তন আর আত্মপরিচয়ের মতো বিষয় তার গানে বারবার উঠে আসে। ইংরেজির পাশাপাশি তিনি খাসি ও জৈন্তিয়া ভাষাতেও র্যাপ করেন, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা।
শিলংয়ের ছোট গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পরিচিতি

একসময় রেবল শুধু শিলংয়ের সংগীতমহলেই পরিচিত ছিলেন। শিলং শহর বরাবরই রক ব্যান্ড, গির্জার কোরাস আর গিটারভিত্তিক সংগীতের জন্য পরিচিত। সেখানে হিপহপ খুব বেশি জনপ্রিয় ছিল না।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলিউডের অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর মাধ্যমে। সিনেমাটির গানে রেবলের কণ্ঠ দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে ‘রান ডাউন দ্য সিটি: মনিকা’, ‘নাল নাচনা’ এবং ‘মুভ — ইয়ে ইশক ইশক’ গানে তার শান্ত অথচ দৃঢ় উপস্থাপনা দ্রুতই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে।
নতুন গান ঘিরে আলোচনা
সম্প্রতি প্রকাশিত রেবলের নতুন গান ‘প্রেইং ম্যান্টিস’ আবারও তাকে আলোচনায় এনেছে। গানটির গাঢ় ও সম্মোহনী আবহ ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ভক্তরা গানটির লিরিক, সুর এবং প্রতীকী অর্থ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করছেন।

রেবলের সংগীতে যেমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ আছে, তেমনি আছে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিও। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে আলাদা অবস্থানে ছিল। এখানকার অনেক মানুষ নিজেদের দেশেই বাইরের মানুষ হিসেবে দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলেন।
নিজের শর্তেই এগোতে চান
রেবলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের পরিচয়কে বদলে না ফেলা। বৃহত্তর দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তিনি নিজের ভাষা, উচ্চারণ বা অভিজ্ঞতাকে সহজ করে উপস্থাপন করতে চান না। বরং নিজের বাস্তবতাকেই সরাসরি তুলে ধরছেন তিনি।
তার ভাষায়, তিনি কারও নির্দেশে চলতে পছন্দ করেন না। আর সেই স্বাধীন মানসিকতাই তাকে ভারতীয় হিপহপের নতুন প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠে পরিণত করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















