বায়ুদূষণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে রাজধানী ঢাকা। শনিবার সকালেও সেই চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় এদিন ঢাকার অবস্থান ছিল ৩১তম। সকাল ৯টায় ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ৬৬, যা ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার দূষণ সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক সহনীয় হলেও শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর
শনিবারের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ২৯০। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের দিল্লি, যার স্কোর ২১০। তৃতীয় স্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যেখানে একিউআই ছিল ১৬৭।

বায়ুর মান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়
একিউআই বা বায়ুর মান সূচক প্রতিদিনের বাতাস কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে এটি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও তুলে ধরে।
বাংলাদেশে সাধারণত পাঁচ ধরনের প্রধান দূষক উপাদানের ভিত্তিতে একিউআই নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।
শীতকালে বাড়ে দূষণ
রাজধানী ঢাকায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই বায়ুদূষণ বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। অন্যদিকে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের মান কিছুটা উন্নত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র সংক্রমণের মতো নানা রোগের পেছনে বায়ুদূষণ বড় ভূমিকা রাখে।
ঢাকার বায়ুর মান আজও মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ নগরজীবন নিশ্চিত করতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















