যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথা আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরান আগ্রহী হলেও তা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারের আন্তরিকতা দেখাবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাতে ফেরার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
ভারত সফরে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সেখানে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তা
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান নতুন অবস্থান তুলে ধরেছে। আরাঘচি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়—এমন সব জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে, তবে সেগুলোকে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজের পরিস্থিতি এখনও জটিল এবং এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান চায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, তবে সেটি নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তায় সন্দেহ
ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে। আরাঘচির ভাষায়, এসব অবস্থান ইরানের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আদৌ সমাধান চায় কি না।
গত মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা সাময়িকভাবে আটকে গেছে। দুই পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা আপাতত যুদ্ধবিরতি ধরে রাখতে চায় যাতে কূটনীতির সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রয়োজন হলে আবারও লড়াইয়ে ফেরার প্রস্তুতিও রয়েছে।
চীনের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত

চীনের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে তেহরান। আরাঘচি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে রয়েছে এবং বেইজিংয়ের সদিচ্ছার ওপর ইরানের আস্থা আছে।
তিনি বলেন, যেকোনো দেশ যদি কূটনৈতিক সমাধানে সহায়তা করতে পারে, তাহলে ইরান সেটিকে স্বাগত জানাবে। আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন উত্তেজনার শঙ্কা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে। একই দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বাড়লে তেলের দাম ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















