কলকাতা থেকে সারাক্ষণ রিপোর্ট জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির এক সময়ের শক্তিশালী কৌশলী ও প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় আর নেই। সোমবার ভোরে কলকাতায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন তিনি, বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি—দুই প্রধান দলের রাজনীতিতে গভীর ছাপ রেখেছেন। জীবনের শেষ সময়ে মন ও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যার কারণে তিনি তার তৈরি রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে লড়াই করতে বাধ্য হন।
রাজনীতির পথচলা ও প্রারম্ভিক জীবন
মুকুল রায় ১৯৫৪ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজ জীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্রজীবনে সিপিআই(এম)-এর ছাত্রসংগঠন SFI থেকে শুরু করে পরে যুব কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন। কলকাতায় টিকোনো বাড়ি না থাকায় প্রতিদিন ট্রেনে করে যাতায়াত করতেন। স্থানীয়রা মনে করতেন, তিনি চিঠি রচনায় দক্ষ এবং স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় অবদান
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে ওঠার সময় মুকুল রায় ছিলেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বুথ থেকে শুরু করে প্রতিটি অঞ্চলে দলকে সংগঠিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। সাধারণ মানুষকে নাম ও পরিচয় মনে রাখার ক্ষমতার জন্য তিনি রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ভূমিকা
২০০০-এর দশকে তিনি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৬ সালে রাজ্যসভার সদস্য হন। ২০১১ সালে বাম শাসনের ৩৪ বছরের শৃঙ্খল ভাঙতে তৃণমূল-কংগ্রেস জোট গঠনে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১২ সালে তিনি রেলমন্ত্রী হন, যদিও কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতায় তৃণমূল দল তখন ইউপিএ-২ থেকে বেরিয়ে আসে।
দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদান
২০১৫ সালে সারদা ও নারদা মামলায় নামাজড়ানোর পর তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়। ২০১৭ সালে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বাংলায় বিজেপির ভিত্তি শক্ত করতে এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে সাফল্য আনার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
পুনরায় তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ও শেষ দিনগুলো
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি তৃণমূলে ফিরে আসেন, তবে স্বাস্থ্যজনিত কারণে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে সরে আসেন। ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এ কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে এ্যান্টি-ডিফেকশন আইনে বিধায়ক পদ থেকে অপসৃত করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে জনসেবা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারতেন না।
কলকাতা থেকে সারাক্ষণ রিপোর্ট জানাচ্ছে, মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির আধুনিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু রাজ্য রাজনীতিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















