ভারতের NCERT‑এর নবতম অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে ‘ভারতের ভাগাভাগি প্রায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল’ এমন তথ্য যুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বইতে বলা হয়েছে, মহাত্মা গান্ধী ও অধিকাংশ কংগ্রেস নেতারা ভাগাভাগির বিরোধী ছিলেন, তবুও শেষ পর্যন্ত তাঁরা এটিকেই একমাত্র উপায় হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।
পুরোনো ও নতুন বইয়ের পার্থক্য
আগের বইয়ে ব্রিটিশ সরকারের পাঠানো তিন সদস্যের মিশন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে কোনো সমঝোতা করতে পারেনি, তাই ‘ভাগাভাগি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল’ বলা হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা ভাগাভাগি মেনে নিয়েছিলেন—এমন কোনো ব্যাখ্যা ছিল না। নতুন বইয়ে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ভাগাভাগি
নতুন বইটি ‘ভারতের স্বাধীনতার দীর্ঘ পথ’ শিরোনামে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ থেকে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা পর্যন্ত ইতিহাসকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছে। এতে স্বাধীনতা আন্দোলন, বাংলা ভাগ, ভারত ভাগসহ বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ রয়েছে। বইয়ে বলা হয়েছে, ব্রিটিশদের ভারত ছেড়ে যাওয়ার পেছনে গান্ধীর অহিংস নীতি ও কংগ্রেসের নীতি ছাড়াও সাধারণ মানুষের আন্দোলন, বিপ্লবীরা, ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিদ্রোহ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশদের অবনমন ও বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিক বিরোধী প্রবণতাও ভূমিকা রেখেছিল।

জলিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের নতুন ব্যাখ্যা
১৯১৯ সালের জলিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডে নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, বহু অনুরোধের পরও ব্রিটিশ সরকার ক্ষমা চায়নি এবং শুধু এটিকে ‘ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুরোনো বইয়ে ক্ষমা‑চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।
ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে‑এর বিস্তারিত
১৯৪৬ সালের অগস্টে মুসলিম লীগের ঘোষিত ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে‑তে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংঘটিত হয়। নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, প্ররোচিত বক্তব্য ও প্রচারণার কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, হিন্দু ও মুসলিম উভয় পক্ষই সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখায়। সহিংসতা ও ভীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রায় অসম্ভব মনে হয় এবং ভাগাভাগি অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। পুরোনো বইয়ে এই সহিংসতার মাত্রা সীমিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পাইকা সংগ্রাম অন্তর্ভুক্তি
নতুন বইয়ে ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পাইকা সংগ্রামের কথাও রাখা হয়েছে, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ১৮০০ সালের কৃষক বিদ্রোহ। গত বছর বইয়ের প্রথম খণ্ড প্রকাশের সময় পাইকা বিদ্রোহের অনুপস্থিতিকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল।
NCERT‑র বর্তমান পরিচালক ডি পি শকলানি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















