বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতের কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী আদালত কক্ষে হট্টগোল করেন এবং দায়িত্বে থাকা বিচারকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ঘটনায় আদালত কক্ষের বেঞ্চ ও আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অধিবেশন মুলতবি করে ব্যক্তিগত কক্ষে চলে যেতে বাধ্য হন। এতে স্বাভাবিক বিচারকার্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরে বিচারক অপসারণের দাবিতে আদালতের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভও হয়।

অবমাননার রুল ও ফৌজদারি মামলা
ঘটনাটি সর্বোচ্চ আদালতের নজরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত অবমাননার রুল জারি করে। একই সময়ে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধের দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তার ও অভিযানে তৎপরতা
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদারের দায়ের করা মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রয়েছেন। মামলা দায়েরের পর বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনকে সকালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত কক্ষ ভাঙচুর ও আদালত অবমাননার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন ইসলাম জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

আইনজীবীদের কর্মবিরতি ঘোষণা
এদিকে গ্রেপ্তার ও মামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরিশালে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে তারা আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আইন মেনে চলা সবার দায়িত্ব। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















