চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। চূড়ান্ত হিসাবে এ হার আগের প্রাথমিক অনুমান ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশের চেয়ে কম। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের ৪ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনাতেও এটি নিম্নমুখী। ফলে টানা কয়েক বছর ধরে যে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা ছিল, তাতে স্পষ্ট শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে।
অর্থনীতির আকার বেড়েছে, তবে গতি কম
চলতি মূল্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ৬২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫০ লাখ ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। অর্থনীতির মোট আকার বেড়েছে ঠিকই, তবে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপের ইঙ্গিত মিলছে।
কৃষিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানো, তবু আগের চেয়ে কম
২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। প্রাথমিক হিসাবের ১ দশমিক ৭৯ শতাংশের তুলনায় এটি কিছুটা বেশি। তবে আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৩০ শতাংশের চেয়ে কম, অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসেবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ পয়েন্ট। উৎপাদন ব্যয়, প্রাকৃতিক প্রভাব ও বাজার পরিস্থিতি এ খাতে চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
শিল্পে সামান্য উন্নতি, প্রত্যাশার নিচে
শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। যদিও এটি প্রাথমিক অনুমান ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশের চেয়ে কম, তবে আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫১ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। অর্থাৎ শিল্পে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের আভাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গতি এখনো ফেরেনি।
সেবায় বড় ধাক্কা
সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশে। প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় কিছুটা কম এবং আগের অর্থবছরের ৫ দশমিক ০৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্ন। বছরওয়ারি হিসেবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ পয়েন্ট। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে শ্লথতা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে পতন
চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ ২ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে দেশীয় সঞ্চয়-জিডিপি অনুপাত কমে ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমেছে, যা আগে ছিল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জাতীয় সঞ্চয়-জিডিপি অনুপাতও কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশে। বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে এ পতন ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
মাথাপিছু আয়ে বৃদ্ধি
সব চাপের মধ্যেও মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ স্থানীয় মুদ্রায় মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩০ হাজার ৪০৯ টাকা। ডলারে হিসাব করলে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এ আয়ের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সার্বিক চিত্র বলছে, অর্থনীতির আকার বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে নিম্নমুখী ধারা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















