ইন্দোনেশিয়ার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে দেশটির স্টক এক্সচেঞ্জ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের বাজারে মুক্তভাবে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ ন্যূনতম ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত একসঙ্গে সবার ওপর চাপিয়ে না দিয়ে প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাকার্তায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে সাম্প্রতিক সময়ের সূচক ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে
স্টক এক্সচেঞ্জের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী জেফরি হেন্দ্রিক জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রস্তুতির মাত্রা অনুযায়ী আলাদা দলে ভাগ করা হতে পারে। প্রথম দফার কোম্পানিগুলোকে এক বছরের মধ্যে নতুন নিয়ম মানতে হবে। দ্বিতীয় দফার কোম্পানিগুলো পাবে দুই বছর সময়। তবে এই পরিকল্পনা আর্থিক সেবা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের কাছে একটি সময়সূচি চেয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সূচক প্রণয়নকারী সংস্থা এমএসসিআই সতর্ক করে দেয়, স্বচ্ছতার ঘাটতির কারণে ইন্দোনেশিয়ার বাজারকে সীমান্তবর্তী বাজারে নামিয়ে আনার ঝুঁকি রয়েছে। বাজারে সম্ভাব্য মূল্য কারসাজির আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়। এর পর থেকেই পুঁজিবাজার সংস্কারে সক্রিয় হয় দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
নতুন ফ্রি ফ্লোট নীতি সেই সংস্কারের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ।
কত শেয়ার বাজারে আসতে পারে
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রাপ্ত শেয়ার মালিকানার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫ শতাংশের কম ফ্রি ফ্লোট থাকা দুই শতাধিক কোম্পানি যদি নতুন শর্ত পূরণ করে, তাহলে প্রায় ১৮৭ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ মূল্যের শেয়ার বাজারে আসতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ বিশাল অঙ্কের সমান।
তবে কিছু কোম্পানি চাইলে তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার করার পথও বেছে নিতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কোথায়
স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগ হলো, অতিরিক্ত শেয়ার সরবরাহ বাজার কতটা গ্রহণ করতে পারবে। কোম্পানিভেদে বাজার মূলধন, অতিরিক্ত বিক্রির প্রয়োজনীয় শেয়ারের পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন চলছে।
নিয়ম চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে অগ্রাধিকারভিত্তিক কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সূচকের অবস্থা ও অন্যান্য সংস্কার
দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক চলতি বছরে পাঁচ শতাংশের বেশি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে, যা আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্সগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্রি ফ্লোট বৃদ্ধির পাশাপাশি মালিকানার তথ্য প্রকাশ কঠোর করা, বিনিয়োগকারী শ্রেণিবিন্যাস বিস্তৃত করা এবং বাজার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির এক শতাংশের বেশি শেয়ারধারীদের নাম প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার পুঁজিবাজার নতুন এক কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, যা স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Sarakhon Report 



















