দীর্ঘ ২৫ বছরের আলোচনার পর দক্ষিণ আমেরিকার মার্কোসুর জোটের সঙ্গে বহুল আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরে তড়িঘড়ি পথে হাঁটছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পূর্ণ অনুমোদনের আগেই অস্থায়ীভাবে চুক্তি চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এতে ফ্রান্স তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে একে “খারাপ চমক” বলেছে।
ব্রাসেলসে শুক্রবার কমিশন জানায়, মার্কোসুরভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নোটিশ বিনিময়ের দুই মাস পরই চুক্তি অস্থায়ীভাবে কার্যকর হতে পারবে। এর ফলে পূর্ণ অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই শুল্ক হ্রাসসহ বাণিজ্যের নানা দিক চালু করা যাবে।
কেন তাড়াহুড়ো করছে ইইউ
সাধারণত ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ফরাসি সদস্যদের নেতৃত্বে একদল আইনপ্রণেতা ইতোমধ্যে চুক্তির বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এতে পূর্ণ বাস্তবায়ন দুই বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এই বিলম্ব এড়াতেই অস্থায়ী প্রয়োগের পথে হাঁটছে কমিশন। তাদের যুক্তি, দ্রুত কার্যকর না করলে কৌশলগত সুবিধা হারাতে পারে ইউরোপ।
চার বিলিয়ন ইউরো শুল্ক কমার সম্ভাবনা
আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত মার্কোসুরের সঙ্গে এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় পণ্যে প্রায় চার বিলিয়ন ইউরো শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। সম্ভাব্য শুল্ক হ্রাসের দিক থেকে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
জার্মানি ও স্পেনসহ সমর্থক দেশগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্য পুষিয়ে নিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই চুক্তি জরুরি।
ফ্রান্সের আপত্তি ও কৃষকদের ক্ষোভ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় কৃষি উৎপাদক দেশ ফ্রান্স শুরু থেকেই এই চুক্তির কড়া বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, কম দামের গরুর মাংস, চিনি ও পোলট্রি আমদানি বেড়ে গেলে দেশীয় কৃষকরা বড় ধাক্কা খাবেন।
স্ট্রাসবুর্গে ফরাসি কৃষক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভে এই ক্ষোভ স্পষ্ট হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের জন্য এক ধরনের অপ্রত্যাশিত ও অসম্মানজনক পদক্ষেপ।
ফরাসি মাংস শিল্প সংগঠনও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে গণতান্ত্রিক বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা চলছে তা ঠেকানো হয়।
রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট
জানুয়ারির ভোটে ২১টি দেশ চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেয়। অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড ও পোল্যান্ড বিপক্ষে ভোট দেয়, আর বেলজিয়াম ভোটদানে বিরত থাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বৃহত্তম রাজনৈতিক জোট চুক্তির দ্রুত প্রয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে।
এদিকে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি অনুমোদন করেছে। ব্রাজিল ও প্যারাগুয়েও শিগগিরই একই পথে হাঁটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছেন, তারা প্রস্তুত হলেই আমরা প্রস্তুত। সেই ভিত্তিতেই এখন অস্থায়ী প্রয়োগের পথে এগোনো হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















